ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং মোকাবেলায় বরিশাল বিভাগে মোট ৩ হাজার ৯৭৪টি সাইক্লোন শেল্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এসব সেন্টারে ৫ লাখ মানুষ আশ্রয় নিতে পারবে।

এদিকে আজ সোমবার সকাল থেকে বৃষ্টির সঙ্গে দমকা বাতাস শুরু হয়েছে। ৬টা থেকে বরিশালের অভ্যন্তরীণ রুটের লঞ্চ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বরিশালের নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের উপ পরিচালক আ. রাজ্জাক এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। 

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় বরিশালে ১০৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। পাশাপাশি বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ৪৫ কিলোমিটার। বরিশাল নদী বন্দরে অভ্যন্তরীণ রুটের নৌ চলাচল বন্ধ করেছে। নগরের ডিসি ঘাট থেকে স্পিড বোট চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন।  

তবে ঝড় মোকাবেলায় সকল প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি)র বরিশাল আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপ পরিচালক মো. শাহবুদ্দিন মিয়া। তিনি জানান, সিপিপির ৩২ হাজার ৫০০ স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রয়েছে। তারা মাইকিং করে লোকজনকে নিরাপদে যাওয়ার আহবান জানাচ্ছে। এরইমধ্যে যে সকল ইউনিয়নে লোকজন আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছে তাদেরকে স্থানীয় প্রশাসন শুকনা খাবার বিতরণ করছে।

বরিশালের জেলা প্রশাসক মো. জসীম উদ্দীন হায়দার বলেন, সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলা ও ঝড় পরবর্তী পরিস্থিতি সামাল দিতে বরিশাল জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। জেলায় ৫৪১টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত আছে, যেখানে প্রায় ২ লাখ ৬৯ হাজার মানুষ আশ্রয় নিতে পারবে। শুকনা খাবার, সুপেয় পানি মোমবাতি, ঔষধপত্রের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার মো. আমিন-উল আহসান জানান, সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কায় উপকূলীয় মানুষকে নিরাপদে নেয়ার জন্য বিভাগের ৩ হাজার ৯৭৪টি সাইক্লোন শেল্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সেই সঙ্গে পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি, শুকনা খাবার এবং ওষুধের ব্যবস্থা করা হয়েছে।