ডিবি পুলিশের সদর দপ্তরে কোটা সংস্কার আন্দোলনের ৬ সমন্বয়কের আন্দোলন কর্মসূচি প্রত্যাহার বিষয়ক বিবৃতিকে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করে বিবৃতি দিয়েছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

 

তারা সোমবার (২৯ জুলাই) দিবাগত রাত থেকেই বিবৃতি দিতে থাকেন। আইন, ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ, ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং, লোকপ্রশাসন, অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস, উদ্ভিদবিজ্ঞান, ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা, পদার্থবিজ্ঞান, অর্থনীতি ও ইংরেজি বিভাগসহ আরো কয়েকটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিবৃতি দেন।

 

এর মধ্যে আইন বিভাগের শিক্ষার্থীদের বিবৃতিতে বলা হয়, ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ধারা ১৬২ অনুযায়ী পুলিশের নিকট দেয়া কোনো সাক্ষীর জবানবন্দি পরবর্তীতে অপরাধের কোনো অনুসন্ধানে কিংবা বিচারে ব্যবহারযোগ্য নয়। সুতরাং, শত শহীদের রক্তের জবাব আদায় না হওয়া পর্যন্ত কোনো জোরপূর্বক আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণার ভিত্তি আমাদের নিকট এখনো নেই এবং ভবিষ্যতেও থাকবে না। আমরা ৬ সমন্বয়কসহ সকল শিক্ষার্থীকে অতি দ্রুত মুক্তি দেয়ার দাবি জানাচ্ছি। একের পর এক শিক্ষার্থীদের গণগ্রেফতার ও রাস্তা-ঘাটে হয়রানি, পুলিশি হেফাজতে নির্যাতনের প্রতি তীব্র ঘৃণা প্রকাশ করছি। আইনের তোয়াক্কা না করে আন্দোলন সমন্বয়কদের গোয়েন্দা কার্যালয়ে আটকে রেখে যে ম্যাকিয়াভেলিয়ান রীতির প্রদর্শন হয়েছে, তার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং আন্দোলন চলমান রাখার পক্ষে সমর্থন জ্ঞাপন করছি।

 

এছাড়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য বিভাগগুলোর শিক্ষার্থীরা স্বতন্ত্রভাবে বিবৃতি দিয়ে বলেন, অস্ত্রের মুখে কোটা আন্দোলনের সমন্বয়কদের জিম্মি করে ডিবি অফিসে হাতে স্ক্রিপ্ট ধরিয়ে জোরপূর্বক যে বিবৃতি দেয়া হয়েছে তা এদেশের সচেতন ছাত্রসমাজ প্রত্যাখ্যান করেছে। শহীদের রক্তের সাথে বেঈমানী করা হবে না। এদেশের ছাত্রসমাজ দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়বে না।