বকেয়া বেতনের দাবিতে গাজীপুরের চন্দ্রা-নবীনগর মহাসড়কে টানা পঞ্চম দিনের মতো বিক্ষোভ ও অবরোধ করেছে বেক্সিমকো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের শ্রমিকরা। বুধবার (২০ নভেম্বর) সকালে শ্রমিকরা চক্রবর্তী এলাকায় মহাসড়ক অবরোধ করেন। যৌথবাহিনীর আশ্বাসে দুপুরে অবরোধ তুলে নিলেও কিছুক্ষণের মধ্যে আবারো একই স্থানে মহাসড়ক অবরোধ করে শ্রমিকদের একটি অংশ।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুরের চক্রবর্তী এলাকায় বেক্সিমকো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে কয়েকটি শিল্প প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এখানকার শ্রমিকদের মাসিক বেতন সাধারণত পরের মাসের ৭ থেকে ১০ তারিখের মধ্যে পরিশোধ করা হয়। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে নির্ধারিত সময়ে বেতন পরিশোধ করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।

নভেম্বরের ১৫ তারিখ পার হলেও অক্টোবর মাসের বেতন না পেয়ে শ্রমিকরা গত শনিবার (১৬ নভেম্বর) থেকে মহাসড়কে অবরোধ শুরু করেন। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলা এ অবরোধে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয়। যাত্রীরা বিকল্প পথে গন্তব্যে পৌঁছাতে বাধ্য হন।

যৌথবাহিনীর মধ্যস্থতায় কর্তৃপক্ষ দু-একদিনের মধ্যে অক্টোবর মাসের বেতন পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দেয়। পরে দুপুর পৌনে ২টার দিকে শ্রমিকরা অবরোধ তুলে নেন। তবে প্রতিশ্রুতির বিষয়ে আস্থা না রেখে শ্রমিকদের একটি অংশ ঘণ্টাখানেক পর বিকাল পৌনে ৩টার দিকে ফের মহাসড়কে অবস্থান নেয় এবং অবরোধ চালিয়ে যায়।

কাশিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, বুধবার সকালে শ্রমিকরা মহাসড়ক অবরোধ করে। যৌথবাহিনীর মধ্যস্থতায় তারা দুপুরে অবরোধ তুলে নেয়। তবে এক ঘণ্টা পর আবারো অবরোধ শুরু হয়।

তিনি জানান, শ্রমিকদের দাবি পূরণের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে। এ ছাড়া অ্যামাজন নিটওয়্যার কারখানায় অগ্নিকাণ্ড ও ট্রাক ভাংচুরের ঘটনায় আটক ২৩ শ্রমিককে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

বিক্ষোভের কারণে চন্দ্রা-নবীনগর মহাসড়কের যাত্রী ও পরিবহন চলাচল চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। বিকাল সোয়া ৫টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত শ্রমিকদের একাংশের অবরোধ এখনো চলছে।