নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ এনে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছে বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন। প্রয়োজনে এ বিষয়ে মামলা করা হবে বলে জানিয়েছে দলটি। একই সঙ্গে দলটির নেতারা অভিযোগ করেছেন, চলমান প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভবিষ্যতের সরকারকে আরো কর্তৃত্ববাদী করে তোলার পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে।

আজ বুধবার (৭ জানুয়ারি) ঢাকার তোপখানা রোডের মেহেরবা প্লাজায় দলটির প্রধান কার্যালয়ে ‘বিভাজনের মাফিয়াতান্ত্রিক রাজনীতি, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং জনগণের করণীয়’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এসব কথা জানানো হয়।

সভায় দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদার ভূঁইয়া বলেন, ঐতিহাসিক ফেলানী দিবস পেরিয়ে গেলেও ফেলানী হত্যার বিচার হয়নি। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। একই সঙ্গে ভেনিজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের সমালোচনা করে বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তা বড় ঝুঁকিতে পড়েছে।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তে ইতিহাসের সবচেয়ে অনিয়মপূর্ণ নির্বাচনের আয়োজন করা হচ্ছে। আমলাতন্ত্র, রাষ্ট্রযন্ত্র ও কয়েকটি দল মিলে সংস্কারের সম্ভাবনা নষ্ট করছে। এর ফলে ভবিষ্যতের সরকার আরো কঠোর শাসনের পথে যেতে পারে।

দলের সভাপতি ও প্রধান আলোচক হাসনাত কাইয়ূম বলেন, রাষ্ট্রের প্রভাবশালী কাঠামো ও নির্বাচন কমিশন নির্বাচনকে দুই দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে রেখেছে। ছোট দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের অংশগ্রহণের সুযোগ কার্যকরভাবে রাখা হয়নি। এতে ভোটারদের সামনে প্রকৃত বিকল্প নেই বলে তিনি মনে করেন।

হাসনাত কাইয়ূম জানান, নির্বাচন কমিশন আদালতের রায় অমান্য করে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের নিবন্ধন দেয়নি। নির্বাচন ব্যাহত না করার কথা ভেবে দলটি এতদিন কঠোর পদক্ষেপ নেয়নি। তবে এখন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ ঠেকাতে পুলিশ ব্যবহার করে সমর্থকদের ভয় দেখানো হচ্ছে এবং মনোনয়ন বাতিলের চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এ সময় স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মনোনয়ন নিশ্চিত করতে আপিল করা হবে এবং প্রয়োজনে উচ্চ আদালতে যাওয়ার ঘোষণা দেন হাসনাত কাইয়ূম। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগে আইনি নোটিশ পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য দেন অহিংস আন্দোলন বাংলাদেশের সভাপতি আবুল বাশার, লেখক ও একটিভিস্ট আবুল কালাম আজাদ, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ সোহেল সিকদার, ভূমিহীন ও অবাঙালি বিষয়ক সম্পাদক শেখ নাসির উদ্দিন, দপ্তর সম্পাদক ছামিউল আলম রাসু এবং কৃষি বিষয়ক সহ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম জুয়েল।

দলের সহসভাপতি হাবিবুর রহমান রাজা সভায় সভাপতিত্ব করেন। আলোচনা সভা সঞ্চালনা করেন সহ আইন সম্পাদক মামুনুর রশীদ মামুন।