গ্রেফতার এড়াতে ভারতে পালিয়ে গিয়েছিলেন নিয়োগ ও ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতি এবং প্রশ্ন ফাঁসে অভিযুক্ত রাজশাহীর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নয়ন ইসলাম (২৫)। কিন্তু ফেরার পথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে পড়লেন ঠিকই।

গত ৫ মার্চ বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে ফেরার সময় নয়নকে গ্রেফতার করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। বর্তমানে তিনি রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) হেফাজতে রয়েছেন।

আজ বুধবার (৮ মার্চ) দুপুরে নয়নকে সাংবাদিকদের সামনে হাজির করা হয়। এ সময় আরএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) বিজয় বসাক গ্রেফতারের বিস্তারিত জানান।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত নয়ন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। এ চক্রে তার সঙ্গে আরো চারজন রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বোয়ালিয়া মডেল থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও পেনাল কোডে একটি মামলা হয়েছে। আসামিদের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গ্রেফতার নয়ন জেলার বাগমারা উপজেলার অচিনঘাট এলাকার বাসিন্দা। তবে তিনি নগরীর নিউমার্কেট সংলগ্ন পিজি টাওয়ারে থাকতেন। চিকিৎসক, সরকারি কর্মকর্তা, এনজিও কর্মী ইত্যাদি নানা ভুয়া পরিচয়ে চাকরিপ্রার্থী ও ভর্তিচ্ছুদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন তাদের।

মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রাথমিক খরচ নেয়ার পর চুক্তি মোতাবেক এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার মূল সনদপত্র ও রেজিস্ট্রেশন কার্ড সংগ্রহ করতেন। পরে কৌশলে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিতেন।

পুলিশ জানায়, সম্প্রতি গণমাধ্যমে এ নিয়ে সংবাদ প্রচার হলে বিষয়টি নজরে আসে তাদের। দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে নগর গোয়েন্দা পুলিশকে নির্দেশ দেন আরএমপি কমিশনার। পরে ডিবির অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার আব্দুল্লাহ আল মাসুদের নেতৃত্বে অভিযান শুরু করে নগর গোয়েন্দা পুলিশ।

একই সাথে তাদের দেশত্যাগ ঠেকাতে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি দেশের সব বিমানবন্দর ও স্থলবন্দরসমূহে বিশেষ পত্র পাঠায় আরএমপি। কিন্তু তার আগেই অভিযুক্তরা ভারতে পালিয়ে যান। পরে গত ৬ মার্চ বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে দেশে ফেরার সময় ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।