পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, ইউএস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ আমাদের প্রধান দু'টি দলের প্রধানের সঙ্গে নির্বাচনের আগেই কথা বলেছে। তারা এতে সম্মতি দিয়েছিলেন। সুতরাং এমন না যে এ চুক্তি আমরা অন্ধকারে রেখেছি। আজ বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। খবর বিবিসি বাংলা।
এ সময় মন্ত্রী বলেন, আরেকটি জিনিস মনে রাখবেন, এতে (মার্কিন চুক্তিতে) একটি এন্ট্রি ও এক্সিট ক্লজ আছে। এন্ট্রি ক্লজ হচ্ছে, নোটিফিকেশন না হলে এটা কার্যকর হবে না। এখনো নোটিফিকেশনে যায়নি। সরকার ইচ্ছে করলে রিভিউ করতে পারে। আর এক্সিট ক্লজ হচ্ছে, আপনি ৬০ দিনের নোটিশ দিয়ে বেরিয়ে যেতে পারেন। এমন না যে আমরা একটা বন্ধ ঘরে বাংলাদেশকে ঠেলে দিয়েছি।
মার্কিন চুক্তিটি পাঠে বাংলাদেশে একটি 'বিভ্রান্তি' আছে উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, শুধুমাত্র বাংলাদেশের সঙ্গে এগ্রিমেন্টটা দেখলে চলবে না। পাশাপাশি দেখবেন ভিয়েতনাম, ক্যাম্বোডিয়া, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়াসহ অন্য দেশগুলো কী কী দিয়েছে, কী কী পেয়েছে। এটা কম্পেয়ার করলে দেখবেন, মোটামুটি ইউনিফর্ম ল্যাঙ্গুয়েজ সব জায়গায়।
বাংলাদেশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মাঝখানে পড়েনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রথমে একেবারেই শুরুতে যখন ডিলটা হলো, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রথম তাদের কাছে আমাদের বাণিজ্য ঘাটতি নিয়ে আমরা কথা বলি। এ রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ আরোপ করা হয় সম্ভবত এপ্রিল মাসে এবং তারপর থেকে এ আলোচনা শুরু হয়। এপ্রিল থেকে জুলাই টানা আলোচনা চলে। শুধু আমাদের না, আরো অনেক দেশের সঙ্গে রেসিপ্রোক্যাল ট্যারিফ নিয়ে আলোচনা হয় এবং সেই আলোচনার পরে কিন্তু আমরা ২০ শতাংশ পেয়েছিলাম।
সেই সময় দুটো বিষয় ছাড়া 'মোটামুটিভাবে চুক্তিটা হয়ে গেছিল' উল্লেখ করে তিনি বলেন, এক, আমরা তাদের বলেছিলাম, আমেরিকান কটন বা ম্যানমেড ফাইবার দিয়ে তৈরি যে পোশাক আমরা তাদের কাছে পাঠাব, সেখানে আমরা জিরো রেসিপ্রোক্যাল ট্যারিফ চাই। সেটা করতে তাদের সময় লেগেছে, তবে এটা কিন্তু আমাদের স্বার্থে। আর দ্বিতীয়টা হলো, রুলস অব অরিজিন। তাতেও তারা সময় নিয়েছে। অ্যাগ্রিমেন্ট আমরা করে রেখেছিলাম ৩১ জুলাই। ১ তারিখে আমরা ২০ শতাংশ পেয়েছি। সুতরাং, এটা যে চট করে নির্বাচনের তিন দিন আগে করা হয়েছে সেটা ঠিক নয়।
এ সময় মন্ত্রী আরো বলেন, বর্তমান সরকারের 'সবার আগে বাংলাদেশ' প্রতিপাদ্যের সঙ্গে চুক্তিটি সাংঘর্ষিক না।










