স্কুল ম্যানেজমেন্ট কমিটিতে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী। আরো বলেছেন, কমিটিতে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হলে তিনি একাই হাইকোর্টে রিট করবেন।
আজ দুপুরে এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্লাটফর্ম বাংলাদেশের আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘সরকারের অগ্রাধিকার ও শিক্ষা খাত: বাজেট ও বাস্তবতা’ শীর্ষক সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন।
রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ শিক্ষার পরিবেশ ও জবাবদিহিতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই স্কুল ম্যানেজমেন্ট কমিটি যেন রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থাকে, সে বিষয়ে জাতীয় ঐকমত্য প্রয়োজন।
স্কুল ম্যানেজমেন্ট কমিটিতে রাজনৈতিক প্রভাব চান না তারা। যদি রাজনৈতিকভাবে কাউকে নিয়োগ দেয়া হয়, তাহলে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত যেতে পারে বলে মন্তব্য করেন রাশেদা কে চৌধুরী।
শিক্ষাখাতের বাজেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিভিন্ন আনুষঙ্গিক খাত যুক্ত করে শিক্ষা বাজেটকে বড় দেখানোর প্রবণতা বন্ধ করতে হবে। তার মতে, শিক্ষা বাজেট স্বচ্ছ ও বাস্তবভিত্তিক হওয়া প্রয়োজন। অপ্রাসঙ্গিক বিষয় যুক্ত করে বাজেট ফুলিয়ে দেখানোর দরকার নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রাশেদা কে চৌধুরী শিক্ষা খাতকে ব্যয় নয়, মানবসম্পদে বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, শিক্ষার মান উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত সংস্কার জরুরি।
সংলাপে তিনি শ্রেণিকক্ষভিত্তিক ধারাবাহিক মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালু রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন। তার মতে, শুধু পরীক্ষানির্ভর মূল্যায়নের পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত শেখার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।
বক্তব্যে রাশেদা কে চৌধুরী আরো বলেন, বেসরকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ও নীতিমালার আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে যেন শিক্ষানীতির ধারাবাহিকতা ব্যাহত না হয়, সে জন্য একটি স্থায়ী শিক্ষা কমিশন গঠনের দাবি জানান তিনি।










