নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণের প্রভাবে গত মার্চ থেকে একে একে বন্ধ হয়ে যায় দেশী-বিদেশী এয়ারলাইনসের আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ সব রুটের ফ্লাইট। বর্তমানে বেশকিছু গন্তব্যে ফ্লাইট চালু হলেও সেটা সীমিত আকারে। ফলে টিকিট বিক্রি থেকে কমিশন আয় প্রায় নেই বললেই চলে অধিকাংশ ট্রাভেল এজেন্সির। এ অবস্থায় বিলিং সেটেলমেন্ট প্ল্যান (বিএসপি) লিংকের চার্জ ছয় মাসের মওকুফ চেয়ে ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনকে (আয়াটা) চিঠি দিয়েছে ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশ (আটাব)।

নভেল করোনাভাইরাসের প্রভাবে ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর আর্থিক দুরবস্থার বিষয়টি উল্লেখ করে ১৬ আগস্ট আয়াটার এরিয়া ম্যানেজার আযহার আযাহারিকে চিঠি পাঠায় আটাব। আটাবের সভাপতি মনছুর আহমেদ কালাম স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা হয়, কভিড-১৯ মহামারীর প্রভাবে এভিয়েশন ও ট্যুরিজম খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যার ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের ট্রাভেল এজেন্সিগুলো ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়েছে। গত মার্চ থেকে আন্তর্জাতিক রুটে এয়ারলাইনসগুলোর ফ্লাইট বন্ধ থাকায় ট্রাভেল এজেন্সিগুলো কোনো ব্যবসা করতে পারেনি। আইএটিএর আওতাধীন ট্রাভেল এজেন্সিগুলো বিএসপি লিংক ব্যবহার করে কোনো টিকিট বিক্রি করতে পারেনি। এর ফলে এজেন্সিগুলো মারাত্মক আর্থিক সংকটে পড়েছে। গত জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাসের বিএসপি লিংক চার্জ মওকুফের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে চিঠিতে অনুরোধ করা হয়েছে।

আটাব বলছে, সরকার নিবন্ধিত সাড়ে তিন হাজার ট্রাভেল এজেন্সির বাণিজ্যিক সংগঠন আটাব। করোনার প্রভাবে জুন পর্যন্ত ট্রাভেল এজেন্সি ও পর্যটন খাতে সম্মিলিতভাবে প্রাক্কলিত ব্যবসায়িক ক্ষতির পরিমাণ ১২ হাজার কোটি টাকা। এ সময় প্রায় চার লাখ লোকের চাকরি হারানোর আশঙ্কা রয়েছে। শুধু ট্রাভেল এজেন্সি খাতে করোনার প্রভাবে প্রাক্কলিত ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াবে আনুমানিক ৫ হাজার কোটি টাকা।

এর আগে নভেল করোনাভাইরাস মহামারীতে ক্ষতিগ্রস্ত ট্রাভেল এজেন্সি রক্ষায় গত এপ্রিলে অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয় আটাব। চিঠিতে বলা হয়, ব্যবসা কার্যক্রম বন্ধ থাকা সত্ত্বেও ট্রাভেল এজেন্সি ও পর্যটন শিল্পে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও অফিস পরিচালনা বাবদ সব খরচ বহন করতে হচ্ছে। এতে প্রতিষ্ঠানভেদে প্রতি মাসে সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা ক্ষতি হচ্ছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন-ভাতা প্রদান ও তাদের ভবিষ্যতের কর্মসংস্থান বহাল ও অফিস পরিচালনা চলমান রাখতে নগদ ২ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্রয়োজন।