গত ১৩ সেপ্টেম্বর দৈনিক বণিক বার্তার প্রথম পাতায় ‘‌বাংলাদেশকে ফিনল্যান্ড বানাতে চেয়েছিলেন যারা!’" শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদ নিয়ে একটি প্রতিবাদলিপি পাঠিয়েছেন ঢাবির মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মেহতাব খানম, যা এখানে তুলে ধরা হলো—

‘‌ফাতেমা-তুজ-জিনিয়ার প্রতিবেদনটিতে বাতিলকৃত শিক্ষাক্রমের উপদেষ্টা হিসেবে আমার নাম ও ছবি প্রকাশ করা হয়। শুরুতেই প্রতিবেদককে এ কারণে ধন্যবাদ জানানো প্রয়োজন যে এই প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার ফলে আমি জানতে পারলাম যে আমার নাম ও পরিচয় জাতীয় শিক্ষাক্রম ২০২১-এ উপদেষ্টা হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।

তবে একই সঙ্গে বলা প্রয়োজন যে প্রতিবেদনটিতে দুঃখজনকভাবে আমার ছবি প্রকাশ করা হলেও এ শিক্ষাক্রমে আমার ভূমিকা বা অবদান সুনির্দিষ্টভাবে কী ছিল বা আদৌ কোনো ভূমিকা ছিল কিনা তার কোনো উল্লেখ নেই।

সত্য এই যে এ শিক্ষাক্রম তৈরির এক পর্যায়ে আমার সঙ্গে প্রকল্পের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিবর্গ যোগাযোগ করেছিলেন। তাদের অনুরোধে আমি শুরুর দিকের একটি সভায় অংশগ্রহণ করি। কিন্তু সেই সভার আলোচনা মূলত স্তুতিমূলক রাজনৈতিক বক্তব্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল; একটি শিক্ষাক্রম তৈরির বিষয়ে কোনো দর্শন বা দিকনির্দেশনা আমি এ সভায় লক্ষ করিনি। ফলে আমি পরবর্তী আর কোনো সভায় অংশগ্রহণ করিনি এবং তাদেরকে আর কোনো প্রকার পরামর্শ দেয়া থেকেও বিরত থেকেছি। পরবর্তী আর কোনো সভায় তাই আমার উপস্থিতির স্বাক্ষর পাওয়া যাবে না।

শিক্ষাক্রমের রিপোর্টেও নাকি উপদেষ্টা হিসেবে আমার নাম প্রকাশিত হয়েছে, যা তৎকালীন প্রজেক্ট কর্মীরা কিংবা এনসিটিবির তৎকালীন কর্মকর্তারা আমাকে জানানোর প্রয়োজন মনে করেননি। এই রিপোর্টের কোনো কপিও আমি কখনো পাইনি।

বণিক বার্তার প্রতিবেদন যথাযথভাবে দাবি করতেই পারে যে আমাকে তারা মেসেজ ও ফোন দিয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করেছেন। তবে প্রতিবেদন প্রকাশের আগে আমার সঙ্গে আন্তরিকভাবে এবং যথেষ্ট মাত্রায় চেষ্টা করা হয়েছে বলে আমি মনে করি না। কারণ আমাকে প্রায়ই গণমাধ্যম থেকে নানা বিষয়ে মন্তব্যের জন্য যোগাযোগ করা হয়, আমিও যথাসাধ্য প্রশ্নের উত্তর দিয়ে থাকি। বণিক বার্তার সঙ্গেও তেমন যোগাযোগ সংঘটিত হলে আমি অবশ্যই আমার বক্তব্য জানাতে পারতাম। যে নম্বরে আমাকে যোগাযোগ করা হয়েছে তাতে মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য সাহায্য চাওয়া অজস্র বার্তা প্রতিদিন এসে জমা পড়ে, যেগুলো আমি একাধিক দিন সময় নিয়ে দেখি এবং উত্তর দিই। এছাড়া দীর্ঘ সময়ের অসুস্থতার ফলে নিয়মিত বার্তাগুলো দেখতে পারাও বেশ খানিকটা বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

কিন্তু যোগাযোগ করা কোনো কারণে সম্ভব না হলেও আরেকটি বিষয় প্রতিবেদকের ও সম্পাদনা বিভাগের পেশাদারত্বের সঙ্গেই বিবেচনা করা উচিত ছিল। সেটা হলো, গুরুতর একটা বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত হিসেবে একজন ব্যক্তির ছবি ছাপা হলেও সংশ্লিষ্ট সংবাদে ওই ব্যক্তির কোনো তৎপরতার উল্লেখ না থাকা। আশা করি বণিক বার্তা একমত হবে যে এতে জনমানসে ওই ব্যক্তি সম্পর্কে গুরুতর ভুল বোঝাবুঝির সম্ভাবনা তৈরি হয়।’

প্রতিবেদকের মন্তব্য: মাধ্যমিক স্তরে ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষাক্রম প্রণয়ন ও পরিমার্জনের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ কর্তৃক ২০২১ সালের ২৫ অক্টোবর জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটির যে প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়েছিল, সেই প্রজ্ঞাপনে সদস্যদের তালিকায় ড. মেহতাব খানমের নামও ছিল। এ প্রজ্ঞাপনের তথ্যই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ-সংক্রান্ত সভায় অংশগ্রহণের বিষয়টি ড. মেহতাব খানম তার প্রতিবাদ লিপিতেও স্বীকার করেছেন। প্রতিবেদনটি প্রকাশের আগে ড. মেহতাব খানমের মন্তব্যের জন্যও একজন সংবাদকর্মী হিসেবে পেশাদারত্বের জায়গা থেকে তার সঙ্গে ফোনকল এবং ক্ষুদে বার্তার মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু তাৎক্ষণিক তার কাছ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।