বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ও সামষ্টিক অর্থনীতির যে ‘উন্নয়ন তকমা’ গত এক দশকে বিশ্বজুড়ে প্রচারিত হয়েছে, তার ভিত্তি নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সংস্থাটির ২০২৬ সালের জানুয়ারির সর্বশেষ ‘ডেটা অ্যাডিকুয়েসি অ্যাসেসমেন্ট’ প্রতিবেদনে বাংলাদেশের জাতীয় আয় (ন্যাশনাল অ্যাকাউন্টস) বা জিডিপি-সংক্রান্ত পরিসংখ্যানকে ‘সি’ রেটিং দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি, সরকারি আর্থিক পরিসংখ্যান, আমদানি-রফতানির পরিসংখ্যান এবং আর্থিক ও মুদ্রানীতিসংক্রান্ত তথ্যের ক্ষেত্রেও দুর্বলতা খুঁজে পেয়েছে সংস্থাটি।

আইএমএফের ঋণ কর্মসূচিতে ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে যুক্ত হওয়ার পর থেকে সংস্থাটির কাছে বিভিন্ন ধরনের তথ্য ও পরিসংখ্যান নিয়মিত সরবরাহ করে আসছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে জিডিপি, সরকারি আর্থিক পরিসংখ্যান ও ঋণ, মূল্যস্ফীতি, ব্যালান্স অব পেমেন্ট (বিওপি), রাজস্ব আয়, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, বিনিময় হার, আর্থিক ও মুদ্রানীতিসংক্রান্ত বিভিন্ন ধরনের তথ্য ও পরিসংখ্যান অন্যতম। বাংলাদেশের পাঠানো এসব তথ্যের ভিত্তিতে অর্থনীতির সার্বিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে আইএমএফ। এক্ষেত্রে তথ্যের পর্যাপ্ততার বিষয়ে সংস্থাটির পক্ষ থেকে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের তথ্য-উপাত্তের গুণগত মান মূল্যায়ন করা হয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে এ-সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে আইএমএফ।

আইএমএফের মূল্যায়ন অনুসারে, বাংলাদেশের জিডিপি গণনায় এখনো অনুসরণ করা হচ্ছে মান্ধাতা আমলের পদ্ধতি। বিশেষ করে ‘সাপ্লাই অ্যান্ড ইউজ টেবিল’ নিয়মিত হালনাগাদ না করায় উৎপাদনের প্রকৃত চিত্র উঠে আসছে না। জাতীয় আয়ের তথ্যে উল্লেখযোগ্য সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। বিশেষ করে তথ্যের সময়োপযোগিতা এবং প্রকাশের ক্ষেত্রে অনেক বেশি বিলম্বের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে বার্ষিক জিডিপির পরিসংখ্যান আট মাস এবং ত্রৈমাসিক জিডিপির পরিসংখ্যান চার মাস দেরিতে প্রকাশ করা হয়। তাছাড়া ত্রৈমাসিক জিডিপির তথ্য শুধু উৎপাদনের ভিত্তিতে প্রকাশ করা হয়, এক্ষেত্রে ব্যয়ের ভিত্তিতে জিডিপির তথ্য দেয়া হয় না। এসব কারণে বাংলাদেশের জিডিপির পরিসংখ্যানকে ‘‌সি’ রেটিং দিয়েছে আইএমএফ, যা সংস্থাটির দ্বিতীয় সর্বনিম্ন গ্রেড।

বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন তথা জিডিপির সরকারি পরিসংখ্যান দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্নবিদ্ধ। দেশী-বিদেশী বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার পাশাপাশি সরকারের নানা পর্যায় থেকেও এ তথ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বলা হয়েছে, উন্নয়নের বয়ান তৈরির জন্য জিডিপির আকার ও প্রবৃদ্ধিকে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে দেখিয়েছিল ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী সরকার। দেশী-বিদেশী বিভিন্ন নথিতে পাওয়া তথ্য এবং অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞদের ভাষ্যমতে, বাংলাদেশের জিডিপির প্রকৃত আকার ৩০০-৩৫০ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে হতে পারে। যদিও তা দেখানো হচ্ছে ৪৫০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি। স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণ এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নকে অতিরঞ্জিত করে দেখাতে বিগত সরকার দেশের জিডিপি পরিসংখ্যানকে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে দেখিয়েছে। গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দায়িত্ব নেয়া অন্তর্বর্তী সরকারও এসব পরিসংখ্যান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল। কিন্তু এ বিষয়ে কাজ না করে বরং আগের ধারায় জিডিপির আকার নির্ধারণ করা হয়েছে।

অর্থনীতির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশকের ক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা থাকে জিডিপির। বৈশ্বিকভাবে জিডিপির অনুপাতের সঙ্গে ঋণ কিংবা রফতানি থেকে শুরু করে রাজস্ব আয়সহ গুরুত্বপূর্ণ অনেক নির্দেশকের তুলনা করা হয়। গত দেড় দশকে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি নিয়ে সরকারের বক্তব্যের সঙ্গে একমত হতে পারেননি দেশী-বিদেশী অর্থনীতিবিদ ও পর্যবেক্ষকরা। একটি দেশের ঋণের নিরাপদ সীমা কত হবে, রফতানি আয় পর্যাপ্ত কিনা, ব্যয় মেটানোর জন্য প্রয়োজনীয় রাজস্ব আহরণ হচ্ছে কিনা—এ সবকিছু পরিমাপ করা হয় জিডিপির অনুপাতে। ফলে জিডিপির তথ্য অতিরঞ্জিত হলে অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ এসব নির্দেশকও ভুল তথ্য দেয়। বিগত সরকার ঋণের পরিমাণ কমিয়ে দেখাতে জিডিপি বাড়িয়ে দেখিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০২৩-২৪-এর তুলনায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জিডিপির আকার ৩ দশমিক ৯৭ শতাংশ বেড়ে ৪৬২ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়ায়। অথচ গত অর্থবছরের প্রায় পুরোটা সময় অস্থিরতার মধ্য দিয়ে পার করেছে দেশের অর্থনীতি। দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ মন্দার পাশাপাশি কর্মসংস্থান পরিস্থিতিও আশাব্যঞ্জক ছিল না। এমন পরিস্থিতিতে জিডিপি প্রবৃদ্ধির এ তথ্য অনেকের কাছে বিশ্বাসযোগ্য হয়নি। সর্বশেষ আইএমএফের মূল্যায়নেও বাংলাদেশের জিডিপির পরিসংখ্যানের দুর্বলতার দিকটি উঠে এসেছে।

বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতির পরিসংখ্যানের বিষয়ে আইএমএফ বলছে, সিপিআই বাস্কেটে যেসব পণ্য ও সেবা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, সেগুলো অপর্যাপ্ত এবং এর কারণে মূল্যস্ফীতির চাপ মূল্যায়নের বিষয়টি প্রভাবিত হতে পারে। সংস্থাটির মূল্যায়নে মূল্যস্ফীতির পরিসংখ্যান সার্বিকভাবে ‘‌বি’ রেটিং পেলেও পরিধি বা ব্যাপ্তির দিক দিয়ে ‘‌সি’ রেটিং পেয়েছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রকাশিত পরিসংখ্যানের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে মূল্যস্ফীতি। খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ার সঙ্গে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ার গভীর সম্পর্ক রয়েছে। চালসহ খাদ্যপণ্যের দাম বাড়লে মূল্যস্ফীতি স্বাভাবিকভাবে বাড়ার কথা। বাংলাদেশ ব্যাংকের মূল্যস্ফীতি হিটম্যাপ অনুযায়ী, খাদ্য মূল্যস্ফীতি হিসাবের ক্ষেত্রে চালের ভর ধরা হয় ১০ দশমিক ৮ শতাংশ। অথচ অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, বাজারে চালের দাম বেশি থাকলেও বিবিএসের হিসাবে মূল্যস্ফীতি কমে যায়।

মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রক্রিয়াকরণের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তারা বলছেন, মূল্যস্ফীতির বাস্কেটে ৭৪৯টি পণ্য যুক্ত করা হয়েছে। এখানে আলমারি, ল্যাপটপ, চেয়ার-টেবিল থেকে এমন অনেক পণ্য রয়েছে, যা হয়তো কেউ জীবনে একবার কেনেন। আগে এতে ৪২০টি পণ্য ছিল। কিন্তু এখন অনেক পণ্য থাকায় নিত্যপণ্যের দাম বাড়লেও তা মূল্যস্ফীতিতে তেমন প্রভাব ফেলে না। যদি অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের হিসাবে মূল্যস্ফীতি প্রকাশ করা হয়, তাহলে তা বর্তমান হারের কয়েক গুণ হয়ে যাবে।

জিডিপি ও মূল্যস্ফীতির তথ্য নিয়ে আইএমএফের মূল্যায়নের বিষয়ে জানতে চাইলে পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব আলেয়া আক্তার বণিক বার্তাকে বলেন, ‘যেসব পরিসংখ্যানের বিষয়ে প্রশ্ন উঠেছে, বিশেষ করে জিডিপি, মূল্যস্ফীতি, ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) ও মজুরি হার সূচক (ডব্লিউআরআই) এগুলো কীভাবে এবং কোন পদ্ধতি অনুসরণ করে তৈরি করা হচ্ছে সে বিষয়টি সম্পর্কে অর্থনীতিবিদ, বিশেষজ্ঞ, গণমাধ্যমসহ সবাইকে অবহিত করার জন্য জাতীয় নির্বাচনের পর একটি কর্মশালা করা হবে। সবার মতামতের ভিত্তিতে এসব পরিসংখ্যানের মান কীভাবে আরো উন্নত করা যায় সে বিষয়ে উদ্যোগ নেয়া হবে। বিবিএসের জনবল কম থাকার কারণে জিডিপির তথ্য প্রকাশে সময় লাগছে।’

বিবিএসের পরিসংখ্যানের গুণগত মান, স্বচ্ছতা ও প্রাপ্যতা পর্যালোচনা করে প্রতিষ্ঠানটিকে শক্তিশালী করতে গত বছরের এপ্রিলে পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমানকে সভাপতি করে আট সদস্যবিশিষ্ট একটি টাস্কফোর্স গঠন করে সরকার। গত বছরের ২০ অক্টোবর পরিসংখ্যান দিবসে টাস্কফোর্স তাদের প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তাতে বলা হয়, অতিমাত্রায় প্রকল্পনির্ভর সংস্কৃতির কারণে বিবিএস তাদের মূল কাজ—নিয়মিত ও নিরপেক্ষ পরিসংখ্যান প্রণয়ন থেকে অনেকটাই বিচ্যুত হয়ে পড়েছে। ফলে মাঠপর্যায়ের জরিপ যেমন দুর্বল হয়েছে, পাশাপাশি তথ্য সংগ্রহ ও যাচাইয়ের গুণগত মান ক্ষতিগ্রস্ত এবং সদর দপ্তরকেন্দ্রিক কাজের প্রবণতা বেড়েছে। তাছাড়া রাজনৈতিক প্রভাব, জটিল আমলাতন্ত্র ও দাতানির্ভরতার কারণে প্রতিষ্ঠানটি তথ্যের মান ও বিশ্বাসযোগ্যতা ধরে রাখতে পারছে না বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

জানতে চাইলে ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আইএমএফের মূল্যায়নে যে বিষয়গুলো উঠে এসেছে, সেগুলো বিবেচনা করেই আমরা টাস্কফোর্সের প্রতিবেদনে বিবিএস ও ন্যাশনাল অ্যাকাউন্টিং সিস্টেম শক্তিশালী করার কথা বলেছিলাম। আইএমএফের মূল্যায়ন আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল যে কেউ অস্বীকার করতে পারবে না, পরিসংখ্যান পদ্ধতির উন্নতি ছাড়া মূল্যায়নগুলো এভাবেই চলতে থাকবে। পরিসংখ্যান ব্যবস্থার দুর্বলতার মূলে রয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসনের ইস্যু। এখানে একধরনের আমলাতান্ত্রিক খবরদারি রয়েছে। পরিসংখ্যান সিস্টেম পরিচালনার ক্ষেত্রে দক্ষতার পরিবর্তে আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ মুখ্য বিষয় হিসেবে কাজ করছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের জাতীয় পর্যায়ে একটি সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে আমরা কি আইএমএফের যে মূল্যায়ন সেটিতেই সন্তুষ্ট থাকব নাকি বেরিয়ে যাব। কখন কী পদক্ষেপ নিলে কাজে দেবে সে বিষয়ে অনেক পরামর্শ দেয়া হয়েছে। কিন্তু এক্ষেত্রে গুরুত্ব না দেয়ার বিষয়টিই হচ্ছে আমাদের মূল চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্বে যারা রয়েছেন তাদের দিক থেকে গুরুত্ব না দেয়ার ঘাটতি।’

বাংলাদেশের সরকারি আর্থিক পরিসংখ্যান প্রকাশের সময়ের ব্যবধান এবং সময়োপযোগিতার ক্ষেত্রে ‘‌সি’ রেটিং দিয়েছে আইএমএফ। এ বিষয়ে সংস্থাটির মূল্যায়ন হচ্ছে, বাংলাদেশ বার্ষিক ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় সরকারের বাজেট ও সরকারি ঋণের তথ্য প্রকাশ করে। সরকারের মাসিক আর্থিক তথ্য তিন মাস দেরিতে প্রকাশ করা হয় এবং প্রান্তিক ভিত্তিতে যে তথ্য প্রকাশ করা হয় সেটিকে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য করা দরকার। এক্ষেত্রে বাজেট-বহির্ভূত ইউনিট ও স্থানীয় সরকারের তথ্য অন্তর্ভুক্ত করার পাশাপাশি সরকারের পুঞ্জীভূত সম্পদের তথ্য প্রদান করার পরামর্শ দিয়েছে আইএমএফ।

বৈদেশিক খাতের তথ্য-উপাত্ত সামগ্রিকভাবে ‘‌বি’ রেটিং পেলেও ধারাবাহিকতার দিক দিয়ে ‘‌সি’ রেটিং দিয়েছে আইএমএফ। এক্ষেত্রে রফতানির তথ্য সংশোধনের কারণে সংস্থাটির কর্মকর্তাদের মূল্যায়নে প্রভাব পড়ার পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য পরিমাণে এরর অ্যান্ড অমিশন থাকার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

আইএমএফের প্রতিবেদনে মুদ্রানীতি ও আর্থিক খাতের পরিসংখ্যানকে সার্বিকভাবে ‘‌বি’ রেটিং দেয়া হলেও কিছু ক্ষেত্রে গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এক্ষেত্রে তথ্য প্রকাশের সময়ের ব্যবধান ও সময়োপযোগিতার দিক দিয়ে ‘‌সি’ রেটিং পেয়েছে বাংলাদেশ। আর্থিক খাতের পরিসংখ্যানে ব্যাংক-বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য না দেয়া এবং আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা সূচকের তথ্য দেরিতে দেয়ার কথা বলছে আইএমএফ। ঋণ শ্রেণীকরণ নীতিমালা শিথিল, পুনর্গঠন ও নীতিগত শিথিলতার কারণে খেলাপি ঋণ, মূলধন ও সঞ্চিতিসংক্রান্ত তথ্যের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে বলে মনে করছে সংস্থাটি।

বাংলাদেশে বিগত সরকারের সময়ে ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ কমিয়ে দেখানোর পাশাপাশি সঞ্চিতি সংরক্ষণে ছাড় দেয়ার মাধ্যমে ব্যাংকগুলোর মুনাফা বাড়িয়ে দেখানো হয়েছে। এ অবস্থায় দেশের সরকারি আর্থিক পরিসংখ্যান ও ব্যাংক খাতের পরিসংখ্যানের তথ্যের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশে এখনো পুরোপুরিভাবে আন্তর্জাতিক হিসাবমান অনুসরণ করে ব্যাংক খাতে সম্পদ শ্রেণীকরণ করা হয় না। এটি করা হলে ব্যাংকের খেলাপি ঋণ আরো বাড়ার পাশাপাশি মুনাফা কমবে বলে জানিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘শ্বেতপত্রে আমরা বিবিএসের সংস্কার, তথ্যের নির্ভরযোগ্যতার বিষয়গুলো তুলে ধরে বলেছিলাম যে এগুলো নিয়ে অনেক প্রশ্ন রয়েছে। কাঠামোগত পরিবর্তন করে বিবিএসের স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করার কথা আমরা বলেছিলাম। বিবিএসের সংস্কারের জন্য সরকার আলাদা একটি টাস্কফোর্সও করেছিল। এক্ষেত্রে শ্বেতপত্র কমিটি ও টাস্কফোর্সের সুপারিশ যদি বাস্তবায়ন করা হয়, তাহলে পরিসংখ্যানের দিক দিয়ে অনেক উন্নতির সুযোগ আছে। দুঃখের বিষয় হলো এক্ষেত্রে কঠোর উদ্যোগ না নেয়ার কারণে আমরা “‍‌সি” রেটিং পেয়েছি।’

মোস্তাফিজুর রহমান আরো বলেন, ‘আইএমএফ কী রেটিং দিয়েছে তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো ভালো তথ্য-উপাত্ত না হলে ভালো সিদ্ধান্ত নেয়া যায় না, প্রমাণভিত্তিক নীতি গ্রহণ করা যায় না—এটা আমরা গত সরকারের সময়ও দেখেছি। এক্ষেত্রে আমাদের পরিবর্তন আনতে হবে এবং সেজন্য সুপারিশগুলো বাস্তবায়নে জোরালো পদক্ষেপ নিতে হবে। সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার উৎকর্ষের জন্য এটা করা দরকার।’