ফরিদপুরের সালথায় পুলিশের সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষের ঘটনায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরো তিনজন গুলিবিদ্ধ হওয়াসহ পুলিশ ও র্যাবসহ অন্তত ৩০জন আহত হয়েছে । লকডাউন পরিপালনে স্থানীয় প্রশাসনের পরিদর্শন কার্যক্রম চলাকালে একজনকে লাঠিপেটা করা হলে এ সংঘর্ষের সুচনা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, ফুকরা বাজারে সরকার ঘোষিত লকডাউন কার্যকর করতে গতকাল বিকেলে এক অভিযান চালায় প্রশাসন। এ সময় মো. জাকির হোসেন মোল্যা নামে এক যুবক ফুকরা বাজারে চা খেয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মারুফা সুলতানা খান হিরামনি সেখানে লকডাউনের কার্যকারিতা পরিদর্শনে আসেন। ‘কথা না শোনায়’ তার সঙ্গের এক সহকারী জাকির হোসেন মোল্যাকে লাঠিপেটা করেন। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে সেখানে উপস্থিত জনতা উত্তেজিত হয়ে ওঠে। কিছুক্ষণের মধ্যে সেখানে আরো গ্রামবাসী জড় হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে সালথা থানার এসআই মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে একদল পুলিশ সেখানে উপস্থিত হয়। উত্তেজিত জনতা পুলিশের উপরেও হামলা চালায়। এতে এসআই মিজানুর রহমানের মাথা ফেটে যায়।পরে রাতে বিক্ষুব্ধ স্থানীয়রা থানা ও উপজেলায় হামলা করে। হামলা চলাকালে স্থানীয় ইউএনওর বাসভবন ও থানায় আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। এ সময় ইউএনও ও এসি ল্যান্ডের দুটি গাড়ি ও বেশ কয়েকটি মটরসাইকেল পুড়িয়ে দেয় হামলাকারীরা। এছাড়া হামলাকারীরা উপজেলার ভেতর থেকে বস্তায় করে বিভিন্ন মালামাল লুটপাট করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। এ সময় পুলিশ আর্ত্মরক্ষার্থে গুলি চালালে রামকান্তপুর এলাকার জুবায়ের নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়। এ সময় গুলিবিদ্ধ হয় আরো তিন-চারজন। তাদের ঢাকা ও ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. আলিমুজ্জামান বলেন, লকডাউনের প্রথম দিনে সরকারি নির্দেশনা পালন করতে গিয়ে জনতার সঙ্গে কর্মকর্তাদের ভুল বোঝাবুঝি হয়। তর্কে-বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে স্থানীয়রা এক পর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে উপজেলা পরিষদ, থানা ও উপজেলা চেয়ারম্যানের বাসভবনসহ বিভিন্ন অফিস ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। পরে রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষায় পুলিশ পর্যাপ্ত ফাঁকা গুলি, কাঁদুনে গ্যাস ও রাবার বুলেট ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, পাশের থানা ও জেলা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ও র্যাব সদস্য ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় পুলিশ ও র্যাবের আটজন সদস্য আহত হয়।










