তবে তড়িঘড়ি না করে আরো ভেবেচিন্তেই সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত; কারণ চুক্তিতে যোগ দিলে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর দিক থেকে কিছু নতুন নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’তে বাংলাদেশের সম্ভাব্য যোগদানের প্রশ্নে গতকাল ঢাকায় এক গোলটেবিল বৈঠকে এসব বক্তব্য উঠে আসে। গোলটেবিল বৈঠকটি ‘ভয়েস ফর রিফর্ম’-এর উদ্যোগে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বিডিবিএল ভবনে অনুষ্ঠিত হয়। এ বৈঠকের বিষয় ছিল ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশের সম্ভাব্য যোগদান: কৌশলগত নিরাপত্তার হিসাব-নিকাশ’।
বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন ও সঞ্চালনা করেন ভয়েস ফর রিফর্মের সহ-সমন্বয়ক ফাহিম মাশরুর। তিনি বলেন, ‘মক্কা চুক্তি নিয়ে আলোচনা এতদিন রাজনৈতিক, আমলাতান্ত্রিক ও কূটনৈতিক বৃত্তেই সীমাবদ্ধ ছিল; অথচ জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে নাগরিক সমাজের মতামত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ারই অংশ। নাগরিক দৃষ্টিকোণ থেকে এ বিষয়ে এটিই প্রথম আলোচনা।’
প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়, গত ৭ আগস্ট স্বাক্ষরিত এ চুক্তির কেন্দ্রীয় ধারা অনুযায়ী যেকোনো এক সদস্য দেশের ওপর সশস্ত্র আক্রমণকে সব সদস্যের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হবে। কিন্তু চুক্তির কমান্ড কাঠামো, সৈন্য বা সামরিক সহায়তার পরিমাণ, পারস্পরিক পরামর্শের প্রক্রিয়া এবং নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির পদ্ধতি—এর কোনোটিই এখন পর্যন্ত প্রকাশ করা হয়নি। ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের পরিস্থিতিতে সদস্য দেশের দায় কী দাঁড়াবে, প্রকাশিত দলিলে সে বিষয়েও কিছু বলা নেই। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সম্প্রতি বিষয়টি “ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে” বলে মন্তব্য করা হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে চুক্তির শর্তাবলি সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য জানা এবং সংবিধানের ৬৩ ও ১৪৫(ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তা জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের প্রশ্নটি প্রবন্ধে সামনে আনা হয়।
গোলটেবিল আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড. দিলারা চৌধুরী। আলোচক ছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহী আকবর, সাবেক মার্কিন কূটনীতিক ও ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের সাবেক উপ-প্রধান জন এফ ড্যানিলোউইজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান ড. সাজ্জাদ সিদ্দিকী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক শাহাব এনাম খান, এফএসডিএসের প্রিন্সিপাল রিসার্চ ফেলো ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাফায়াত আহমেদ, নেক্সাস ডিফেন্স অ্যান্ড জাস্টিসের (এনডিজে) সভাপতি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হাসান নাসির (অব.), সাবেক কূটনীতিক সাকিব আলী; জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন, দৈনিক ওয়াদার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ফয়সাল মাহমুদ, মানবাধিকার কর্মী রুবি আহমতুল্লাহ ও ভয়েস ফর রিফর্মের সৈয়দ হাসিব উদ্দিন হোসেন।










