ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে শেষ মুহূর্তে জমে উঠতে শুরু করেছে খুলনার জোড়াগেট কোরবানির পশুর হাট। খুলনা বিভাগের সবচেয়ে বড় এ হাটে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে ক্রেতা-বিক্রেতার হাঁকডাক। বিভিন্ন জেলা থেকে নদী ও সড়কপথে পশু আসা অব্যাহত থাকায় হাটে ধীরে ধীরে সরবরাহ বাড়ছে।
তবে ক্রেতাদের উপস্থিতি বাড়লেও এখনো পুরোপুরি জমে ওঠেনি কেনাবেচা। অনেকে পশু দেখছেন, দরদাম করছেন, কিন্তু হাতবদল হচ্ছে তুলনামূলক কম। বিক্রেতারা বলছেন, ঈদের আগের শেষ কয়েকদিনে মূল বেচাকেনা জমে ওঠে।
২০০৯ সাল থেকে প্রতিবছর ঈদের আগে সপ্তাহজুড়ে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় এ হাটের আয়োজন করে খুলনা সিটি করপোরেশন। হাট শুরু হওয়ার পর প্রথম কয়েকদিন পশুর সরবরাহ কম থাকলেও রোববার রাত থেকে বিভিন্ন জেলা থেকে গরু-ছাগলসহ পশু আসা বেড়েছে।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিনে হাট ঘুরে দেখা যায়, বড় আকারের গরুর সামনে দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়ছে। অনেকে মোবাইল ফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করছেন। শিশু-কিশোরদের মধ্যেও বড় গরু নিয়ে ব্যাপক কৌতূহল দেখা গেছে। বিশেষ করে ফ্রিজিয়ান, শাহিওয়াল ও ব্রাহামা জাতের গরুর সামনে ভিড় বেশি।
হাটে বরাবরের মতো সবচেয়ে বেশি গরু এসেছে নড়াইলের কালিয়া উপজেলা থেকে। তবে এবার তুলনামূলকভাবে খুব বড় গরুর সংখ্যা কম, মাঝারি ও বড় আকারের গরুই বেশি দেখা যাচ্ছে। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ৮০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকার গরুর চাহিদা বেশি। তবে গত বছরের তুলনায় এবার গরুর দাম কিছুটা বেশি বলে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়েই জানিয়েছেন।
নড়াইলের মির্জাপুর থেকে দুটি ফ্রিজিয়ান গরু নিয়ে আসা আল মামুন বলেন, ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টির কারণে দুপুর পর্যন্ত ক্রেতা কম ছিল। তার বড় গরুর দাম চাওয়া হচ্ছে ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং ছোটটির দাম ২ লাখ ১০ হাজার টাকা। তিনি জানান, সাধারণত শেষ দিকেই হাট জমে ওঠে।
নড়াইলের কালিয়ার বাবুপুর এলাকার শিমুল সরদার একটি বড় ফ্রিজিয়ান ও একটি শাহিওয়াল গরু নিয়ে এসেছেন। তার ফ্রিজিয়ান গরুটির ওজন ২৫ মণের বেশি বলে দাবি করেন তিনি। গরুটির দাম হাঁকা হচ্ছে সাড়ে ৭ লাখ টাকা এবং শাহিওয়ালটির দাম সাড়ে ৩ লাখ টাকা। তবে ক্রেতারা মূলত দরদামেই সীমাবদ্ধ রয়েছেন।
নগরের বয়রা এলাকার বাসিন্দা ও ব্যাংক কর্মকর্তা রবিউল আলম পরিবার নিয়ে হাটে এসে বলেন, নগরে পশু রাখার জায়গার সংকট থাকায় অনেকেই ঈদের এক-দুদিন আগে গরু কেনেন। এবার মাঝারি আকারের গরুর সরবরাহ বেশি থাকায় তুলনামূলকভাবে এ ধরনের গরুর চাহিদা বেশি দেখা যাচ্ছে।
হাটের পাশে ছাগল-ভেড়ার জন্য পৃথক জায়গা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অস্থায়ী বুথ এবং হাসিল আদায়ের নির্ধারিত স্থান রাখা হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশ ও আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি মাইকে নিয়মিতভাবে শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে।
হাট এলাকায় পশুখাদ্য ও আনুষঙ্গিক পণ্যের অস্থায়ী দোকানও বসেছে। সেখানে গমের ভুসি, ধানের ভুসি, খইল, শুকনা খড়, তাজা ঘাস, কাঁঠালের পাতা, চাটাই, টুকরি ও রঙিন মালা বিক্রি হচ্ছে। মৌসুমি ব্যবসায়ীরা জানান, এখনো বেচাকেনা পুরোপুরি শুরু হয়নি, তবে রাতের দিকে বেচাকেনা বাড়বে বলে তারা আশা করছেন।
খুলনা সিটি করপোরেশনের সুপারিনটেনডেন্ট ট্যাক্সেশন (বাজার) ও হাট পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব শেখ শফিকুল হাসান দিদার বলেন, গত বছর এ হাটে ৬ হাজার ৬৫১টি পশু বিক্রি হয়েছিল এবং রাজস্ব আদায় হয়েছিল ২ কোটি ৭ লাখ টাকা। ২০২৪ সালে বিক্রি হয়েছিল ৬ হাজার ২৭টি পশু, রাজস্ব আদায় হয়েছিল ২ কোটি ২৫ লাখ টাকা। গত বছরের মতো এবারও ৪ শতাংশ হারে হাসিল নেয়া হচ্ছে। নিরাপত্তাও জোরদার করা হয়েছে।
তিনি জানান, এখানে মূল কেনাবেচা হয় ঈদের আগের দুদিন ও ঈদের দিন সকাল পর্যন্ত। এখনো বিভিন্ন জেলা থেকে পশু আসছে।










