কানাডা-বাংলাদেশী শেফ মাদিহা তুরশিন আন্তর্জাতিক রান্নাবিষয়ক প্রতিযোগিতা ফেভারিট শেফ ২০২৬ এর সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছেন। জনপ্রিয় সেলিব্রিটি শেফ কার্লা হলের উপস্থাপনায় ও জেমস বিয়ার্ড ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় এখন তার পরবর্তী ধাপে ওঠা নির্ভর করছে জনভোটের ওপর।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের হাজারো প্রতিযোগীর সঙ্গে কয়েক সপ্তাহের ভোটযুদ্ধ পেরিয়ে সেমিফাইনালে পৌঁছেছেন মাদিহা। এখন আর এক ধাপ এগোলেই তিনি প্রতিযোগিতার সেরা ১৬ জন চূড়ান্ত প্রতিযোগীর তালিকায় স্থান পাবেন। ভোটগ্রহণের সময় সীমিত থাকায় তিনি বাংলাদেশ, কানাডা এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত বাংলাদেশীদের সমর্থন ও ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

মাদিহার জানান, এ প্রতিযোগিতা তার কাছে শুধু একটি শিরোপা জয়ের লড়াই নয়; বরং বাংলাদেশের সমৃদ্ধ রন্ধনঐতিহ্যকে বিশ্বদরবারে নতুনভাবে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।

ফ্রান্সের খ্যাতনামা রন্ধনশিল্প প্রতিষ্ঠান লে কর্দোঁ ব্লু থেকে গ্র্যান্ড ডিপ্লোমাধারী মাদিহা তুরশিন শেফস কানাডার সদস্য এবং ইয়াম মোমেন্টসের প্রতিষ্ঠাতা। আধুনিক কুলিনারি কৌশলের সঙ্গে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী স্বাদ ও সংস্কৃতির সমন্বয়ে নিজস্ব রন্ধনশৈলী গড়ে তোলার জন্য তিনি পরিচিত।

নিজের রন্ধনদর্শন সম্পর্কে তিনি বলেন, আমার কোনো একটি নির্দিষ্ট পদ নেই; বরং উপস্থাপনার একটি বিশেষ ধরন আছে। আমি শৈশবের পরিচিত স্বাদ ও ঐতিহ্যকে আধুনিক রন্ধনশৈলীর মাধ্যমে নতুনভাবে উপস্থাপন করি, তবে সবসময়ই আমার শিকড়ের সঙ্গে গভীরভাবে সংযুক্ত থাকি।

প্রতিযোগিতায় তার উপস্থাপিত খাবারের মধ্যে রয়েছে ভারদ্যুর, রোহু আ লা বেঙ্গল, কমফোর্ট, কালার্ড এবং মনসুন টি অ্যান্ড মেমোরি। এসব পদের মাধ্যমে তিনি বাণিজ্য, অভিবাসন, কারুশিল্প ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের দীর্ঘ ইতিহাসে গড়ে ওঠা বাংলাদেশের খাদ্যসংস্কৃতির বিবর্তনের গল্প তুলে ধরেছেন।

মাদিহা বলেন, আমি দেখেছি, অনেক মেধাবী বাংলাদেশি শেফ আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিলেও আমাদের বৈচিত্র্যময় রন্ধনঐতিহ্যের গভীরতা তুলে ধরার আগেই তাদের যাত্রা শেষ হয়ে যায়। আমি চাই না বাংলাদেশের গল্প আলোচনার শুরু হওয়ার আগেই থেমে যাক। এ প্রতিযোগিতা বিশ্বের মানুষকে আমাদের খাবার ও রন্ধনঐতিহ্যকে নতুনভাবে জানার সুযোগ করে দিচ্ছে।

তিনি জানান, প্রতিযোগিতায় সফল হলে ইয়াম মোমেন্টসকে বাংলাদেশে একটি বহুমাত্রিক কুলিনারি প্ল্যাটফর্‌ম হিসেবে গড়ে তুলতে চান। যেখানে গ্যাস্ট্রোনমি, সংস্কৃতি, ইতিহাস, নকশা ও গল্প বলার শিল্পের সমন্বয় ঘটবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শেফ, গবেষক, শিল্পী ও ভ্রমণপিপাসুদের জন্য একটি সৃজনশীল মিলনমঞ্চ তৈরি এবং দেশের স্থানীয় রন্ধনশিল্পীদের জন্য নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি ও বাংলাদেশের কুলিনারি পর্যটনের বিকাশে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে তার।

আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, সমর্থকেরা প্রতি ২৪ ঘণ্টায় একটি করে বিনামূল্যে ভোট দিতে পারবেন। এছাড়া অনুদানভিত্তিক অতিরিক্ত ভোটের সুযোগও রয়েছে, যার অর্থ জেমস বিয়ার্ড ফাউন্ডেশন সংশ্লিষ্ট দাতব্য কার্যক্রমের তহবিলে যুক্ত হবে।

মাদিহা তুরশিন আশা প্রকাশ করেছেন, দেশ-বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশিদের সমর্থনে তিনি ফেভারিট শেফ ২০২৬ এর ফাইনালে পৌঁছানোর পাশাপাশি বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের সমসাময়িক রন্ধনশিল্প ও ঐতিহ্যকে আরো মর্যাদার সঙ্গে তুলে ধরতে পারবেন।