পটুয়াখালীর
কলাপাড়ায় নির্মাণাধীন ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদিত ১২০
মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে। গতকাল বেলা ১১টায়
পায়রা-গোপালগঞ্জ সঞ্চালন লাইনে সফলভাবে এ বিদ্যুৎ
সরবরাহ করা হয়।
পায়রা তাপবিদ্যুৎ
কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী রেজোয়ান ইকবাল খান সাংবাদিকদের জানান, প্রায় ১৩৬ কিলোমিটার দীর্ঘ ডাবল সার্কিটের হাই ভোল্টেজ
লাইনটি পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে পটুয়াখালী সদর হয়ে গোপালগঞ্জ জেলার মকসুদপুর
উপজেলায় নবনির্মিত ৪০০/২৩০ কেভি গ্রিড উপকেন্দ্রে যুক্ত হয়েছে। আগামী মাসে
বাণিজ্যিকভাবে ৬৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে দিতে সক্ষম হবে পায়রা তাপবিদ্যুৎ
কেন্দ্র।
বাংলাদেশ-চায়না পাওয়ার কোম্পানি
(প্রা.)
লিমিটেডের (বিসিপিসিএল)
কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা
যায়, পাওয়ার সিস্টেম মাস্টার প্লান-২০১০-এর আওতায় ২০৩০ সালের মধ্যে মোট উৎপাদিত বিদ্যুতের ৫০ শতাংশ কয়লাভিত্তিক উৎপাদনের
পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে পরিচ্ছন্ন কয়লা প্রযুক্তিসম্পন্ন
পরিবেশবান্ধব (আলট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল টেকনোলজি ব্যবহারের
মাধ্যমে) দেশের সবচেয়ে বড় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র
নির্মিত হচ্ছে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ধানখালীতে। বাংলাদেশ ও চীনের যৌথ
উদ্যোগে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণের লক্ষ্যে ২০১৫ সালের ২১ মার্চ সমঝোতা স্মারক
স্বাক্ষরিত হয়। বিদ্যুৎ বিভাগের অধীন নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি এবং চায়না
ন্যাশনাল মেশিনারি ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট করপোরেশন ২ বিলিয়ন ডলারের বিদ্যুৎ
প্রকল্পটিতে বাংলদেশ ও চীন যৌথভাবে বিনিয়োগ করছে। এ বছরের মে মাসে প্রথম ইউনিট ৬৬০
মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা করে বিসিপিসিএল। এরই ধারাবাহিকতায় ১ হাজার
৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের প্রথম ইউনিট অর্থাৎ ৬৬০ মেগাওয়াটের ১২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ
গতকাল সকালে পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে। প্রথম ইউনিটের বাকি ৫৪০
মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে উৎপাদনে যাবে। দ্বিতীয় ইউনিট ৬৬০
মেগাওয়াট বিদ্যুৎ এ বছরের মে মাসের মধ্যে উৎপাদনে যাবে। এমন লক্ষ্য নিয়েই
দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে দেশের বৃহৎ পরিবেশবান্ধব পরিচ্ছন্ন পায়রা তাপবিদ্যুৎ
কেন্দ্রের নির্মাণকাজ।
পটুয়াখালীতে
সরকারের বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা সফল হলে দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা
পূরণে এটি হবে একটি মাইলফলক। এমন অভিমত সংশ্লিষ্টদের।









