সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সাতক্ষীরা পৌর মেয়র তাজকিন আহমেদ চিশতীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। গতকাল বুধবার স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় স্থানীয় সরকার বিভাগ পৌর-১ এর ৪৬.০০.০০০০.০৬৩.২৭.০০৪.২২-৭৭০ নাং স্মারকের উপ- সচিব মোহাম্মদ ফারুক হোসেন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। 

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সাতক্ষীরা পৌরসভার মেয়র মো. তাজকিন আহমেদের বিরুদ্ধে বিদ্যমান বিধিবিধান যথাযথভাবে অনুসরণ না করে ২০১৬ সালের মার্চ থেকে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত ৫৮ লাখ ১৯ হাজার ৭০১ টাকা পানির বিল মওকুফসহ বিল যথাযথভাবে আদায় না করার অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। পৌরসভার হাটবাজার ইজারা বাবদ ৬৬ লাখ ৩৯ হাজার ৫৫১ টাকা ৬ বছর যাবৎ বকেয়া আছে। এ ছাড়া ভ্যাট, আয়কর বাবদ ৩৬ লাখ ৭০ হাজার ৯৭০ টাকা আদায় ও সরকারি খাতে জমা করা হয়নি। ইজারার টাকা হাটবাজার ইজারা নীতিমালা-২০১১ অনুযায়ী বণ্টন না করার অভিযোগও তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে।

বিদ্যমান বিধিবিধান যথাযথভাবে অনুসরণ না করে ২০১৬ সালের মার্চ থেকে তদন্তকালীন সময় পর্যন্ত মোট ১ কোটি ২৬ লাখ ২২ হাজার ৯৪৩ টাকার পৌরকর মওকুফ করা হয়েছে। ওই পৌরকর যথাযথভাবে আদায় না করে অধিকাংশ ক্ষেত্রে এককভাবে মওকুফ করার অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে।

২০১৬ সালের মার্চ থেকে ২০২১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৪ লাখ ১৩ হাজার ৭২৬ টাকা ট্রেড লাইসেন্স ফি মওকুফ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বিদ্যমান নিয়মকানুন যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। অধিকাংশ ক্ষেত্রে মেয়র এককভাবে এসব ফি মওকুফ করেছেন।যা তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে।

স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯ এর ধারা ৩১(১) মোতাবেক সাতক্ষীরা পৌরসভার মেয়র তাজকিন আহমেদ এর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের মধ্যে উল্লেখিত অভিযোগসমূহ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯ এর ধারা ৩২ এর উপ-ধারা (১)(ঘ) মোতাবেক অসদাচরণ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে একই আইনের ধারা ৩১(১) অনুযায়ী সাতক্ষীরা পৌরসভার মেয়রের পদ থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হল। 

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা পৌরসভার প্যানেল মেয়র ফিরোজ আহমেদ বলেন, পৌরসভার মেয়রের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ১১ জন কাউন্সিলর চলতি বছরের মার্চ মাসে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ করেন। পরবর্তীতে তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয় স্থানীয় সরকার বিভাগের সাতক্ষীরার উপ-পরিচালক মাশরুবা ফেরদৌসকে। তবে মাশরুবা ফেরদৌসের তদন্তে অভিযোগের সত্যতা না মিললে তারা অধিকতর তদন্তের জন্য আবারো স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন। 

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আব্দুস সবুর অধিকতর তদন্তে পৌর মেয়রের বিরুদ্ধে দুর্নীতির সত্যতা পান। এ পরিপ্রেক্ষিতে  স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯ এর ধারা ৩২ এর উপ-ধারা (১)(ঘ) মোতাবেক অসদাচরণ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে একই আইনের ধারা ৩১(১) অনুযায়ী সাতক্ষীরা পৌরসভার মেয়রের পদ থেকে তাজকিন আহমেদ চিশতিকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। এব্যাপারে সাতক্ষীরা পৌর মেয়র তাসকিন আহমেদ চিশতির ব্যবহারিত ০১৭৬১৭০...২ নং সেলফোনে যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি।