বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে এ দেশে এমন এক বিচারহীনতা, ক্রনিক্যাপিটালিস্ট (দীর্ঘস্থায়ী পুঁজিবাদী) ও একপেশে পরিবেশের মধ্য দিয়ে আমরা গিয়েছিলাম, যেখানে আমাদের সন্তানদের জন্য কোনো নিরাপত্তা ছিল না। এ সময়ে ব্যবসা-বাণিজ্য ও জ্বালানি খাতে দেশ নৈরাজ্যের চরম সীমায় পৌঁছেছিল। সে সময় ব্যবসায়ীদেরও কোনো মর্যাদা ছিল না। তবে এখন সে পরিস্থিতি বদলেছে।
শনিবার (২৩ নভেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে জ্বালানি সংক্রান্ত এক আলোচনায় এ দাবি করেন তিনি। ‘শিল্প খাতে জ্বালানি সংকট সমাধানের উপায়’ শিরোনামে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই)।
অনুষ্ঠানে বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার পরে কিছু আর্থিক অপরাধী সম্পর্কে জানতে পারছি। এসব জেনে আমার কিছু কিছু মানুষের ব্রেন স্ক্যান করে দেখতে ইচ্ছা করে যে এরা এতটা ক্রিমিনাল কী করে হতে পারে?
জ্বালানি খাতের বর্তমান দুরবস্থা কোনো দুর্ঘটনা নয়, বরং পরিকল্পনা করেই এ পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে বলে দাবি করেন বাণিজ্য উপদেষ্টা। তিনি বলেন, জ্বালানি খাতের বর্তমানে যে দুর্বলতা রয়েছে তা কোনো দুর্ঘটনা নয়, এটি ডিজাইন (পরিকল্পনা) করে করা হয়েছে। তবে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের মধ্যে বাস্তবতাকে অস্বীকার করার প্রবণতা নেই। তাই আমরা বিদ্যমান সমস্যার সম্ভাব্য সমাধানের দিকেও যেতে পারব বলে আশা করছি।
বিগত সরকারের আমলে কারখানায় গ্যাস সংযোগ পাওয়া নিয়ে তিক্ত অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন সাবেক এ ব্যবসায়ী। ব্যবসায়ী হিসেবে ন্যূনতম মর্যাদা পাননি দাবি করে তিনি বলেন, সাবেক জ্বালানিমন্ত্রীর (প্রতিমন্ত্রীর) কাছে আমি গিয়েছিলাম। সে সময় ওনার বাসার সামনে বৃষ্টির মধ্যে দাঁড়িয়ে ছিলাম, যেন আমি কোনো চাকরি চাইতে গিয়েছি। এর কারণ, এত টাকা বিনিয়োগ করেছি (শিল্পপ্রতিষ্ঠান তৈরিতে), কিন্তু গ্যাস সংযোগ পাচ্ছিলাম না। তখন গ্যাস সংযোগ পাওয়া আমার কাছে মনে হতো ব্যাংকের নিবন্ধন পাওয়ার মতো।
তবে এখন যথাযথ মর্যাদার পরিবেশ রয়েছে জানিয়ে ব্যবসায়ীদেরকে বিনিয়োগে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান এ উপদেষ্টা। তিনি বলেন, সব কাজ সরকার একা করে দিতে পারবে না। নিজেদের টাকা নিজেদের জন্য নিজেরা ব্যয় করুন। অতীতে এত টাকা দিয়েছি, তার হিসাবও করতে পারব না। এখন আর কাউকে তো টাকা দিতে হবে না। নিজেরাই নিজেদের কাজে ব্যবহার করতে পারবেন। এখন সুযোগ এসেছে, এ সুযোগ ব্যবহার করুন।










