জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় তৃণমূল পর্যায়ে অসাধারণ অবদান রাখা নারীদের সম্মাননা ও স্বীকৃতি দিয়েছে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ)। আজ রাজধানীর এলজিইডি ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ সম্মাননা দেয়া হয়। সংস্থাটির একটি বিশেষ প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশের পাঁচ জেলার ১০টি উপজেলার ১০টি নারী-নেতৃত্বাধীন সিভিল সোসাইটি অর্গানাইজেশন, একটি বিশেষ নেটওয়ার্কের সদস্য এবং নারী উপকারভোগীদের এ সম্মাননা দেয়া হয়েছে।

এমজেএফ জানিয়েছে, সম্মাননা পাওয়া নারীরা স্থানীয়ভাবে পরিচালিত অভিযোজন কার্যক্রম বাস্তবায়ন, ঝুঁকিতে থাকা নারীদের সহায়তা এবং জলবায়ু সহনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তাদের কাজ তৃণমূল পর্যায়ের নেতৃত্ব, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও জলবায়ু সহনশীল সমাজ গঠনের প্রতি দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রতিফলন।

সম্মাননা পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন কুড়িগ্রাম সদরের আরজিনা বেগম। তিনি বন্যাপ্রবণ এলাকায় নারী, শিশু ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারের পাশে থেকে কাজ করে আসছেন। দারিদ্র্য ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যেও তিনি নিজের জমি দান করে এমপাওয়ার প্রকল্পের আওতায় একটি ছোট আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণে সহায়তা করেছেন। দুর্যোগের সময় এটি সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

একই উপজেলার মোমেনা বেগমও সম্মাননা পেয়েছেন। এমপাওয়ার প্রকল্পের প্রশিক্ষণ নিয়ে তিনি ১০০টির বেশি পরিবারের গবাদিপশু রক্ষায় সহায়তা করেছেন। ২০টির বেশি পরিবারকে দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রস্তুত হতে সহায়তা করেছেন। পাশাপাশি ৫০টির বেশি পরিবারকে জলবায়ু সহনশীল বসতভিটাভিত্তিক বাগান গড়ে তুলতে উৎসাহিত করেছেন। এমজেএফ বলছে, তার নেতৃত্ব ও উদ্যোগ ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে আরো সক্ষম করে তুলেছে।

সম্মাননা পাওয়া অন্যরা হলেন কুড়িগ্রাম সদরের নার্গিস আক্তার, চিলমারীর সবেদা বেগম, জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জের মৌসুমি কিবরিয়া, খুলনার কয়রার রাবেয়া খাতুন ও জয়া রানী মণ্ডল এবং সাতক্ষীরার কালীগঞ্জের শাহিদা বেগম, শ্যামনগরের রেখা রানী গায়েন ও সুফিয়া খাতুন।

এমজেএফ জানিয়েছে, তারা নিজ নিজ এলাকায় বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, নারী ও শিশু সুরক্ষা, জীবিকাভিত্তিক প্রশিক্ষণ, বৃক্ষরোপণ, জলবায়ু সহনশীল কৃষি, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে সহায়তা, নিরাপদ পানি নিশ্চিত করা এবং আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপনসহ বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেছেন। তাদের নেতৃত্বে শত শত নারী আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হয়েছেন। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলো দুর্যোগ মোকাবেলায় আরো সক্ষম হয়ে উঠেছে।