রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) মাদার বখ্শ হলের এক আবাসিক ছাত্রকে সাত দিনের মধ্যে হল থেকে নেমে যাওয়ার আল্টিমেটাম দেয়ার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। গতকাল সোমবার (২০ মার্চ) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ওই হলের ৪৩১ নম্বর কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। তবে অভিযুক্তদের দাবি আল্টিমেটাম নয়, তাকে অনুরোধ করা হয়েছে। 

অভিযুক্তরা হলেন- মাদার বখশ হল ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত রায় ও তার অনুসারী আরিফ। দুজনেই শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনুর অনুসারী। আর ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গতকাল রাত সাড়ে ১০টার দিকে হল শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত রায়ের অনুসারী আরিফের নেতৃত্বে পাঁচ থেকে ছয়জন কর্মী ওই রুমে আসেন। এরপর ভুক্তভোগীর কাছে জানতে চান সে কবে হল ছাড়বেন। এ সময় নাজমুল নামের এক অনাবাসিক শিক্ষার্থীর বিছানাপত্র ওই কক্ষে রেখে বলেন ওই রুমে সে থাকবে। ভুক্তভোগীর অভিযোগ এ সময় এক সপ্তাহের মধ্যে হল ছাড়তে আল্টিমেটাম দেন ছাত্রলীগ কর্মীরা। পরে রাতে ওই রুমে অবস্থান করেন নাজমুল নামের ওই শিক্ষার্থী।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘২০ দিন আগে জয়ন্ত রুমে বস্তা রেখে গেছেন। আমি বলছি, আমার এখনো রেজাল্ট হয়নি, রেজাল্ট হলে তারপর চলে যাব। এর কিছুদিন পর তিন থেকে চারজন এসে সাত দিনের মধ্যে হল ছেড়ে চলে যেতে বলেছেন।’

মাদার বখশ হল ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত রায় আল্টিমেটাম দেয়ার অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেন এবং বলেন ওই ভাইয়ের মাস্টার্স শেষ হয়ে গেছে। সে চলে যাবেন বলেছিলেন। গতকালকে কয়েকজন গিয়ে তাকে অনুরোধ করেছে যাতে আরেকজন শিক্ষার্থীকে থাকার সুযোগ দেয়া হয়। গত রাতে ওই শিক্ষার্থী ওই রুমে অবস্থান করার পর চলে গেছে। 

মঙ্গলবার বিকেলে এ বিষয়ে মাদার বখশ হলের প্রাধ্যক্ষ শামীম হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘গতকালকে ওই শিক্ষার্থী আমার কাছে ফোন করেছিলেন। তবে আমার এক আত্মীয় (স্ত্রীর দুলাভাই) মারা গেছেন। আমি ক্যাম্পাসের বাইরে আছি হলে গিয়ে বিষয়টি দেখবো।