যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারতের সঙ্গে সড়ক ও রেল যোগাযোগ সহজ হয়েছে। এ বন্দর দিয়ে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বাণিজ্য ও যাত্রী চলাচলও বেড়েছে বহুগুণ। কিন্তু বন্দরের পুরনো অবকাঠামোয় পণ্য পরিবহন বিঘ্নিত হচ্ছিল। তবে দুই দেশের বাণিজ্যে আরো গতি আনতে স্থলবন্দরে নির্মাণ করা হচ্ছে আধুনিক ট্রাক টার্মিনাল।

এর আগে পুরনো টার্মিনালের পরিবর্তে নির্মিত হয়েছে আন্তর্জাতিক বাস ও যাত্রী টার্মিনাল। পণ্য রাখার শেড ও ইয়ার্ডও বদলে যাচ্ছে এখানে। বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, নতুন নতুন অবকাঠামো নির্মাণে বেনাপোল বন্দরের সক্ষমতা আরো বাড়ছে।

স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, টার্মিনালটি ভারত সীমান্তঘেঁষা হওয়ায় দ্রুত সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারির আওতায় আনার কাজও শুরু হবে। এর আগে বন্দরের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এবং পণ্যাগারগুলোয় ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩৭৫টি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। চলতি বছরের জুনে শেষ হবে টার্মিনালের কাজ। এতে বন্দরের সক্ষমতা বহুগুণ বাড়বে বলেও জানান সংশ্লিষ্টরা। এর আগে পুরনো টার্মিনালের পরিবর্তে নির্মিত হয়েছে আন্তর্জাতিক বাস ও যাত্রী টার্মিনাল। পণ্য রাখার শেড ও ইয়ার্ডও বদলে যাচ্ছে এখানে। এবার নির্মাণ হচ্ছে বৃহৎ ট্রাক টার্মিনাল।

২০২০ সালে বেনাপোল বন্দরের উন্নয়নে ৩৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয় সরকার। ২০২২ সালে শুরু হয় ২৪ একর জমির ওপর ভেহিকল টার্মিনাল নির্মাণকাজ। একসঙ্গে এখানে ১ হাজার ২০০ পণ্যবাহী ট্রাক দাঁড়াতে পারবে। আগামী জুনে কাজ শেষ হবে বলে জানান ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের উপদেষ্টা মোজাম্মেল হক।

বন্দরের পরিসংখ্যান মতে, ২০১১-১২ অর্থবছরে বেনাপোল বন্দরে রাজস্ব আয়ের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৪২৫ কোটি টাকা। ২০২২-২৩ অর্থবছরে তা বেড়ে হয়েছে ৫ হাজার ৭৮৬ কোটি টাকা। একই সময়ে আমদানির পরিমাণ ১২ লাখ টন থেকে বেড়ে হয়েছে ২০ লাখ ৩৫ হাজার ৪৯৯ টন। বন্দরের অবকাঠামো উন্নয়নে যেসব কাজ হাতে নিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ, এসব কাজ শেষ হলে বন্দর আধুনিকতায় পূর্ণতা পাবে—এমনটাই মনে করছেন বন্দর ব্যবহারকারীরা।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এসএসআরের জিএম মোহাম্মদ রিয়াজ উদ্দিন জানান, কার্গো ভেহিকল ট্রাক টার্মিনালের নির্মাণকাজ ২০২৪ সালের জুন নাগাদ শেষ হবে। তখন বদলে যাবে বন্দরের চিত্র।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শামসুর রহমান জানান, কার্গো ভেহিকল ট্রাক টার্মিনালের নির্মাণকাজ শেষ হলে বেনাপোল বন্দরের সক্ষমতা বাড়বে।

এ বিষয়ে বেনাপোল বন্দরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক রেজাউল করিম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘গত ১৫ বছরে বন্দর আধুনিকায়নে সরকারি ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ৬৮৫ কোটি টাকার উন্নয়নকাজ করা হয়েছে। ২৪ একর জমির ওপর নির্মাণাধীন ভেহিকল ট্রাক টার্মিনালের কাজ আগামী জুনে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। টার্মিনালটি চালু হলে বেনাপোল বন্দরে কোনো যানজট থাকবে না।’