বান্দরবান সদর উপজেলায় করোনার উপসর্গ নিয়ে তিনদিনে এক নারীসহ দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শুক্রবার উপজেলার কুহালং ইউনিয়নের উজি হেডম্যানপাড়ার এক ব্যক্তি ও গত বুধবার রাতে উপজেলার সুয়ালক ইউনিয়নের সুলতানপুরের এক নারীর মৃত্যু হয়। মৃত নারীর নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। কিন্তু অন্য ব্যক্তির মৃত্যুর বিষয় কবর দেয়ার পর খবর পাওয়ায় নমুনা সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। তবে মৃত এ ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা ১১ ব্যক্তির নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠিয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা।

উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্র জানায়, করোনার উপসর্গ নিয়ে গতকাল বেলা ১১টার দিকে নিহত ব্যক্তির নাম উহ্লাচিং মারমা (৬০)। তার বাড়ি ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের উজি হেডম্যানপাড়ায়। তিনি কঠিন রোগে ভুগছিলেন। তাই ইনহেলার ব্যবহার করতো বলে জানা গেছে। তার মৃত্যুর বিষয় কবর দেয়ার পর খবর পাওয়ায় নমুনা সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। তবে সন্দেহ হওয়ায় মৃত এ ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা ১১ ব্যক্তির নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় তার বাড়ি ও পাড়ার আংশিক অংশ লকডাউন করা হয়েছে।

অন্যদিকে গত বুধবার রাতে সুয়ালক ইউনিয়নের সুলতানপুরে কারোনার উপসর্গ নিয়ে রওশন আরা বেগম (৫০) নামের এক মহিলার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর কয়েকদিন আগে শ্বাসকষ্ট নিয়ে ওই মহিলা বাড়িতে চিকিৎসা চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। পরে বুধবার রাত ১১ টার দিকে তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে রাতেই নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়। একইসঙ্গে বাড়িটি লকডাউন করা হয়।

এসব বিষয় নিশ্চিত করে বান্দরবান উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ভানু মারমা বণিক বার্তাকে বলেন, গতকাল নিহত ব্যক্তি দুরারোগ্য রোগে ভুগছিলেন। তিনি ইনহেলার ব্যবহার করতেন। তবে সন্দেহ হওয়ায় উজি হেডম্যানপাড়ার মৃত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা ১১ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। গত বুধবার শ্বাসকষ্টে নিহত মহিলার নমুনাও সংগ্রহ করা হয়েছে। এ মহিলার বাড়ি ও উজি হেডম্যানপাড়ার আংশিক অংশ লকডাউন করা হয়েছে। সংগ্রহ করে পাঠানো নমুনা পরীক্ষার ফল এখনো পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন বান্দরবান সিভিল সার্জন ডা. অংসুইপ্রু মারমা। তিনি জানান, ৫ বছরের এক শিশুসহ জেলায় এ পর্যন্ত ৮ জন করোনাভাইরাস পজিটিভ হয়েছে। এরমধ্যে এক ব্যক্তি সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। শনাক্ত হওয়া শিশুকে বিশেষ সেবাসহ অন্যদের আইসোলেশন ইউনিটে রেখে চিকিৎসা সেবা দেয়া বলে বলে জানান তিনি।