কুমিল্লার ময়নামতি ওয়ার সিমেট্রিতে ২৪ জন জাপানি সৈনিকের সমাধি সরানোর কাজ শেষ হয়েছে। এর মধ্যে ২৩টি সমাধি থেকে কংকাল, মাথার খুলি এবং দেহাবশেষের আলামত পাওয়া গেছে। একটি সমাধি থেকে কোনো আলামত মেলেনি। নির্ধারিত সময়ের দুদিন আগেই গতকাল শুক্রবার (২২ নভেম্বর) বিকাল ৫টার দিকে এ খনন কাজ শেষ হয়।

জাপানের ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ দলের সঙ্গে থাকা মুক্তিযুদ্ধ গবেষক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) কাজী সাজ্জাদ আলী জহির (বীর প্রতীক) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ৮১ বছর পরেও ২৩টি সমাধিতে কিছু কংকাল, মাথার খুলি ও শরীরের বিভিন্ন হাড় পাওয়া গেছে। সমাধিগুলো সাবধানতার সঙ্গে খনন করা হয়েছে। তবে একটি সমাধিতে কোনো দেহাবশেষের আলামত পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, ওই সৈনিকের বয়স কম হওয়ায় তার দেহাবশেষ মাটির সঙ্গে মিশে গেছে।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) কাজী সাজ্জাদ আলী জহির আরো জানান, ফরেনসিক টিম এসব আলামত নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জাপানে ইতিবাচক ফলাফল পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী।

১৯৪১ সাল থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত বার্মায় ব্রিটিশদের সঙ্গে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহত ১৩টি দেশের ৭৩৮ জন সেনাকে এখানে সমাহিত করা হয়। ১৯৬২ সালে এক মার্কিন সৈনিকের দেহাবশেষ তার স্বজনরা যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যান। এর ফলে বর্তমানে এখানে ৭৩৭ জন সৈনিকের সমাধি রয়েছে। কমনওয়েলথ ওয়ার গ্রেভস কমিশন এই যুদ্ধ সমাধি ক্ষেত্র রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করে আসছে।

জাপানের ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ দল তাদের প্রাপ্ত আলামতগুলো জাপানে নিয়ে যাবে। সেখানে উন্নত পরীক্ষাগারে এগুলো বিশ্লেষণ করে নিহত সৈনিকদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করা হবে।

প্রসঙ্গত, এই ধরনের খনন কার্যক্রম দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাস এবং সৈনিকদের স্মৃতিকে সম্মান জানাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।