চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে পোশাক রফতানি কমেছিল ৭ দশমিক ৭৪ শতাংশ। রফতানি পতনের এ ধারা অব্যাহত রয়েছে ডিসেম্বরেও। পোশাক খাতের শিল্প মালিকদের সংকলিত হালনাগাদ তথ্য বলছে, ডিসেম্বরের প্রথম দুই সপ্তাহে পোশাক রফতানি আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ২৮ শতাংশ কমেছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সরবরাহ করা সংকলিত পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে বিজিএমইএ বলছে, চলতি অর্থবছরের আগস্টে পোশাক রফতানি কমে ১১ দশমিক ৪৬ শতাংশ। দুই অংকের ওই নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি সেপ্টেম্বরে এক অংকে নেমে হয় ৪ দশমিক ৭০ শতাংশ। অক্টোবরে পোশাক রফতানি কমে ১৯ দশমিক ৭৯ শতাংশ। আর নভেম্বরে পোশাক রফতানি কমেছিল ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ।

চলতি ডিসেম্বরে পোশাক রফতানি নিয়ে বিজিএমইএ বলছে, রফতানি পতনের ধারা অব্যাহত আছে। চলতি মাসের ৩ থেকে ১৬ তারিখ পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে ১২৪ কোটি ৬৩ লাখ ৩৩ হাজার ডলারের পোশাক রফতানি হয়েছে। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের একই সময়ে রফতানি হয়েছিল ১২৮ কোটি ৮৫ লাখ ৫০ হাজার ডলারের পোশাক পণ্য। এ হিসাবে আলোচ্য সময়ে পণ্যটির রফতানি কমেছে ৩ দশমিক ২৮ শতাংশ।

জানতে চাইলে বিজিএমইএ সভাপতি ড. রুবানা হক বণিক বার্তাকে বলেন, রফতানি পতন আরো তীব্র হচ্ছে। মুদ্রা বিনিময় মূল্যের কারণে অনেক উচ্চহারে মূল্য প্রস্তাব করতে হচ্ছে ক্রেতাদের। ফলে প্রতিযোগিত সক্ষমতা বাড়ানোর কোনো পথ পাওয়া যাচ্ছে না। পাশাপাশি পণ্যবৈচিত্র্য ও মূল্য সংযোজনের বিদ্যমান সক্ষমতা এবং অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতার প্রভাবও আমাদের পীড়া দিচ্ছে।

বিশ্ববাজারে পোশাকের চাহিদা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে ব্যবসায়ীরা বলছেন, ১৫ দিন ধরে পরবর্তী মৌসুমের ক্রয়াদেশ নিয়ে ক্রেতার সঙ্গে দরকষাকষিতে ছিলেন অনেক কারখানা মালিক। দেখা গেছে, ক্রেতারা নতুন মৌসুমের পণ্যের মূল্য আরো কমিয়ে দিতে চাইছেন। আগামী মার্চ-এপ্রিলের পর যে ক্রয়াদেশগুলোর বিপরীতে রফতানি করা হবে, সেগুলোর মূল্য আরো কম পাওয়া যাবে।

১৭ ডিসেম্বর বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের পোশাক রফতানি পরিসংখ্যান নিয়ে বিজিএমইএর পর্যবেক্ষণ বলছে, চলতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে সবচেয়ে বেশি রফতানীকৃত পণ্য ছিল কটন নিটেড টি-শার্ট। পণ্যটি রফতানি হয়েছে ১২ কোটি ৬১ লাখ ৫০ হাজার ডলারের, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৩ দশমিক ৩৪ শতাংশ কম।

ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে সবচেয়ে বেশি রফতানি কমেছে, এমন পণ্যগুলোর মধ্যে আছে নন-কটন নিটেড জার্সি ও পুলওভার। এ পণ্যগুলোর