দেশে সৌরবিদ্যুৎ বা সোলার খাতের প্রসারে উদ্যোক্তাদের কর ও বিশেষ নীতিগত সুবিধা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি বলেছেন, এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ নীতিগত সহায়তা। সরকার সোলার খাতের উদ্যোক্তাদের কর-সুবিধা দেয়ার বিষয়েও কাজ করছে। চলতি মাসের মধ্যেই একটি পূর্ণাঙ্গ নীতি চূড়ান্ত করা হবে এবং জুনের মধ্যে তা মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর সরকারি আদেশ হিসেবে জারি করা সম্ভব হবে।
রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ৯ম আন্তর্জাতিক বাংলাদেশ অবকাঠামো উদ্ভাবন ও উন্নয়ন প্রদর্শনী এবং সংলাপ ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী এরই মধ্যে একটি কমিটি গঠন করেছেন। এ কমিটি দ্রুত সোলার খাত বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে কাজ করছে। কমিটির প্রথম বৈঠকও হয়েছে এবং তারা নীতিগত ভিত্তি নির্ধারণ করেছে।
ইকবাল হাসান মাহমুদ টুক জানান, প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকারীদের উপস্থিতি দেখে তিনি নিশ্চিত হয়েছেন, বাংলাদেশ সোলার খাতে এগিয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত। তার মতে, উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা রয়েছে, এখন প্রয়োজন সরকারের নীতিগত সহায়তা। তিনি আশ্বাস দেন, সরকার সে সহায়তা দেবে।
নিজের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, সরকার যদি কোনো খাতে সঠিক নীতিগত সহায়তা দেয়, তাহলে সেখানে বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব।
মন্ত্রী বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিশেষ করে সৌরবিদ্যুতের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখনো প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে। তবে সরকারের নতুন নীতিগত সহায়তার মাধ্যমে আগামী ৫ বছরে বেসরকারী খাতের অংশগ্রহণে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে।
উদাহরণ হিসেবে তিনি তৈরি পোশাক খাতের কথা উল্লেখ করেন। মন্ত্রী বলেন, ১৯৮০ এর দশকে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দেয়া বন্ডেড গুদাম সুবিধা ও ব্যাক-টু-ব্যাক ঋণপত্র সুবিধা দেশের পোশাকশিল্পে বড় পরিবর্তন এনেছিল। এর ফলে গ্রামীণ নারীদের কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে এবং এটি দেশের সবচেয়ে বড় বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের খাতে পরিণত হয়েছে।
একইভাবে সোলার খাতেও নীতিগত সহায়তা দিলে বড় পরিবর্তন সম্ভব বলে মনে করেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, নিয়মকানুন আরো সহজ করা গেলে উদ্যোক্তারা ইনভার্টার, ফ্রেম, সৌর প্যানেলসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সহজে দেশে এনে স্থাপন করতে পারবেন।
ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরের ভবনের ছাদ ব্যবহার করে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, বেসরকারী উদ্যোক্তারা ছাদে সৌর প্যানেল বসিয়ে ভবন মালিকদের বিদ্যুৎ দিতে পারবেন। মাস শেষে নেট মিটারিং পদ্ধতিতে বিল সমন্বয় করা হবে এবং ভবন মালিকরাও এর একটি অংশ পাবেন। এতে উদ্যোক্তাদের জন্য এটি লাভজনক খাতে পরিণত হবে এবং রাজধানীতে বিদ্যুতের চাপও কমবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মুজাফফর আহমেদ, বাংলাদেশ এলিভেটর, এসকেলেটর অ্যান্ড লিফট আমদানিকারক সমিতির সভাপতি মো. শফিউল আলম উজ্জ্বল, বাংলাদেশ টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি সমিতির সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ, জ্বালানি প্রতিবেদক ফোরাম বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এম. আজিজুর রহমান এবং খবরের কাগজের সম্পাদক মোস্তফা কামাল।
আয়োজকেরা জানান, ৩ দিনের এ প্রদর্শনী আগামী শনিবার পর্যন্ত চলবে। এতে ১২টি দেশের প্রায় ১৪০টি কোম্পানি ও প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। প্রদর্শনীতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি, নির্মাণ ও অবকাঠামো উন্নয়ন খাতের বিভিন্ন পণ্য, প্রযুক্তি ও সেবা তুলে ধরা হচ্ছে। প্রদর্শনীর মিডিয়া পার্টনার হিসেবে রয়েছে বণিক বার্তা।










