দফায় দফায় অতিরিক্ত জোয়ারের পানি এবং প্রবল বৃষ্টিতে অনেক জমির বীজতলা এবং রোপণ করা আমনের চারা পচে যাওয়ায় চলতি মৌসুমে ঝালকাঠি জেলায় আমন আবাদ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।

কৃষি বিভাগ জানিয়েছে বন্যাপ্রবণ এলাকা হওয়ায় আগাম ব্যবস্থা হিসেবে আমন চারার ঘাটতি পূরণের জন্য শতাধিক ভাসমান বেডে বীজতলা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কোনো সমস্যা হবে না।

ঝালকাঠি জেলায় চলতি মৌসুমে প্রায় ৪৮ হাজার হেক্টর জমিতে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু এ পর্যন্ত আবাদ হয়েছে মাত্র ১০ হাজার ১২৫ হেক্টরে, যা লক্ষ্যমাত্রার শতকরা ১৮ ভাগের মতো। মৌসুমের শুরুতেই কয়েক দফা বন্যা এবং অতি বৃষ্টিতে বীজতলা এবং রোপণকৃত আমনের চারা পচে যাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। তারা জানিয়েছেন, জমি থেকে পানি না নামায় চাষ করা যাচ্ছে না। আবার বীজতলা নষ্ট হওয়ায় চারা সংকট দেখা দিয়েছে। তাছাড়া যে পরিমাণ চারা অবশিষ্ট আছে, তা দিয়ে লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেক জমিও রোপণ করা সম্ভব হবে না। অর্থ সংকটের কারণে অন্য জেলা থেকে চারা সংগ্রহ করাও তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তাদের অভিযোগ, কৃষি বিভাগও কোনো খোঁজ নিচ্ছে না।

ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার বারইকরণ গ্রামের কৃষক কাজেম আলী হাওলাদার বলেন, এবারের বৃষ্টি ও পানি বৃদ্ধির কারণে আমাদের আমন ধানের অনেক ক্ষতি হয়েছে। এ ক্ষতি আমরা পুষিয়ে উঠতে পারব না।

ঝালকাঠি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. ফজলুল হক জানান, চাহিদার চেয়ে এক হাজার হেক্টরে অতিরিক্ত বীজতলা করা হয়েছে, এছাড়া ১২০টি ভাসমান বেডে বীজতলা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ফলে বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও চারা সংকট হবে না। তাই আমন আবাদের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, তা অর্জনে কোনো সমস্যা হবে না।