যশোরে ভবদহে জলাবদ্ধতা নিরসনে উদ্ভাবনী উদ্যোগে পাইলটিং কার্যক্রম নিয়ে সেমিনারে ভুক্তভোগীদের তোপের মুখে পড়েন পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা। গতকাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সেমিনারের আয়োজন করে পানি উন্নয়ন বোর্ড যশোর। এ সময় বক্তারা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের লুটপাটকারী আখ্যা দিয়ে তাদের বিচার দাবি করেন। একই সঙ্গে ভবদহ অঞ্চলকে লুটপাটকারীদের সোনার ডিমপাড়া হাঁস হিসেবে উল্লেখ করা হয়। বক্তারা বলেন, ভবদহ অঞ্চলে টিআরএম বাস্তবায়ন ছাড়া জনগণকে জলাবদ্ধতার হাত থেকে রক্ষা করা যাবে না।
যশোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. রফিকুল হাসানের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের চিফ ইনোভেশন অফিসার ও মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. আজাদুর রহমান মল্লিক। বিশেষ অতিথি ছিলেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী একেএম তাহমিদুল ইসলাম, যশোর সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পীষূষ কৃষ্ণ কুণ্ডু। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পানি উন্নয়ন বোর্ড যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তাওহীদুল ইসলাম।
সেমিনারে ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির উপদেষ্টা ইকবাল কবির জাহিদ বলেন, ভবদহ অঞ্চলের মানুষ কপালপোড়া। প্রধানমন্ত্রী যেখানে বলছেন, নদী বাঁচলে দেশ বাঁচবে, সেখানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা উল্টোপথে হাঁটছেন। তারা ভবদহ এলাকার নদীগুলোকে মেরে ফেলেছেন। এখানকার মানুষকে বাঁচাতে হলে টিআরএম ছাড়া কোনো উপায় নেই। বিলকপালিয়া থেকে টিআরএম বাস্তবায়ন শুরু করতে হবে। একই সঙ্গে আমডাঙ্গা খাল খনন করতে পারলে ভবদহ অঞ্চলের মানুষ জলাবদ্ধতার হাত থেকে রেহাই পাবে। কিন্তু তা না করে পানি উন্নয়ন বোর্ড লুটপাটের প্রকল্প নিচ্ছে। কোনো অনিয়মের তদন্ত হয় না। মনিরামপুর কুলটিয়া ইউপি চেয়ারম্যান শেখর চন্দ্র বলেন, চার বছর ধরে আমাদের গ্রামে পানির কারণে ফসল হচ্ছে না। নদী শাসন নয়; নদীকে তার নিজস্ব গতিতে চলতে দিতে হবে।
ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক রণজিৎ বাওয়ালি বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড জনগণ ও সরকারকে মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড় করিয়ে দিচ্ছে। খনন করে নদী বাঁচানো যায় না। প্রবাহ নিশ্চিত করেই কেবল নদী বাঁচানো সম্ভব। পাঁচ বছর ধরে কেবল নদী খনন করা হচ্ছে। এতে নদীর অবস্থা আরো খারাপ হয়েছে।
ভবদহ পানি নিষ্কাশন আন্দোলন কমিটির আহ্বায়ক এনামুল হক বাবুল বলেন, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে টিআরএম বাস্তবায়ন শুরু না হলে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বলেন, সরকারের ডেল্টা প্ল্যানে টিআরএম বাস্তবায়নের কথা উল্লেখ রয়েছে। যে কারণে এটি বাতিল হবে না। আমরা জনগণের সঙ্গে পানি উন্নয়ন বোর্ডের দূরত্ব দূর করতে উদ্যোগী হয়েছি। আগামীতে যে প্রকল্প নেয়া হবে সেটি জনগণের মতামতের ভিত্তিতেই করা হবে।
উল্লেখ্য, যশোরের অভয়নগর, মনিরামপুর ও কেশবপুর উপজেলা এবং খুলনার ডুমুরিয়া ও ফুলতলা উপজেলার অংশবিশেষ নিয়ে ভবদহ অঞ্চল। এলাকার ৫২টি বিলের পানি ওঠানামা করে মুক্তেশ্বরী, টেকা, শ্রী ও হরি নদী দিয়ে। পলি পড়ে নদীগুলো নাব্যতা হারিয়েছে। ফলে নদী দিয়ে পানি নিষ্কাশিত হচ্ছে না। এ অবস্থায় বৃষ্টির পানিতে এলাকার বিলগুলো প্লাবিত হয়েছে। বিল উপচে পানি ঢুকেছে বিলসংলগ্ন গ্রামগুলোতে। এরই মধ্যে অভয়নগর ও মনিরামপুর উপজেলার ২০০ গ্রাম পানিতে তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। দ্রুত টিআরএম বাস্তবায়ন না করলে অসংখ্য বাড়িঘর, রাস্তাঘাট, মাছের ঘের, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান আবারো পানির নিচে চলে যাবে।










