ছাত্র-জনতা হত্যা, গণগ্রেফতার, গুম-নির্যাতনের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের সমর্থনে মাঠে নেমেছেন চিকিৎসক ও মেডিকেল শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনের সমর্থনে আজ শুক্রবার (২ আগস্ট) কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমবেত হন তারা। সকাল ১০টায় দেশের প্রায় সব মেডিকেল কলেজের দুই শতাধিক চিকিৎসক, মেডিকেল ও ডেন্টাল শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারী  কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন। এর মধ্যে রাজধানীতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার সংলগ্ন সড়কে দাঁড়িয়ে শ্লোগান দিতে দেখা গেছে আন্দোলনকারীদের।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, সারাদেশে ছাত্রজনতা হত্যার বিচারসহ শিক্ষার্থীরা ৯ দফা দাবি আদায়ের আন্দোলন করছে। চলমান এই আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে আমরাও নেমেছি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবো।

বারডেমের শিক্ষার্থী সানজিদা আক্তার বণিক বার্তাকে বলেন, যারা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে নেমেছে তাদের ওপর অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছে। সেখানই সীমাবদ্ধ থাকেনি, আমাদের বাবা-মা ভাই-বোনদেরও হত্যা করা হয়েছে। সুতরাং এটা আসলে গণহত্যা । তাই শুধু ছাত্রহত্যা নয়, গণহত্যার বিচারের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছি। এতদিন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করেছে, আজ তাদের সঙ্গে আমরাও আন্দোলনে যোগ দিলাম।

বণিক বার্তাকে পাইওনিয়ার মেডিকেলের চিকিৎসক ডা. সাদিয়া ইসলাম বলনে, যেসব সন্তানরা মারা গেছে, তাদের দেখে আমরা থাকতে পারছি না। সরকারের কাছে দাবি, এ হত্যার বিচার করুন।আর যদি না পারেন তাহলে পদত্যাগ করুন।

এছাড়াও যে প্রশাসন দিয়ে এই গণত্যা চালিয়েছে সে প্রশাসনের সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন এ চিকিৎসক।

বৃহস্পতিবার (১ আগস্ট) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সম্মিলিত বিবৃতিতে আজকের অবস্থান কর্মসূচির কথা  জানান চিকিৎসকরা।  

বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা দেখেছি, আমাদের মেধাবী চিকিৎসক সজীবকে হত্যা করা হয়েছে, দেশের নানান শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে আমাদের ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর অত্যাচার করা হয়েছে।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, আমরা আজ ঘোষণা দিচ্ছি যে, পুরো দেশ ও জাতির সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করে শুক্রবার (২ আগস্ট) কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আমরা এক হবো, আমরা আমাদের কথা বলবো, প্রতিবাদ জানাবো একসঙ্গে। চলুন, আবার আমরা এক হই দেশের ছাত্রসমাজের, সব শ্রেণির, সব পেশার মানুষের অধিকার আদায়ে, নিহতদের বিচারের দাবিতে, অবৈধভাবে গ্রেফতারকৃতদের জামিনের দাবিতে।