ময়মনসিংহের ভালুকায় গণপিটুনিতে নিহত দীপু চন্দ্র দাসের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা ও একটি পাকাঘর নির্মাণ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। পরিবারের চাহিদা অনুযায়ী বাড়ি নির্মাণের জন্য ২৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হবে, যা জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ বাস্তবায়ন করবে। পাশাপাশি নগদ আর্থিক সহায়তাও দেয়া হবে।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দীপু দাসের পিতা ও স্ত্রীকে ১০ লাখ টাকা করে দেয়া হবে। একই সঙ্গে তার সন্তানের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার জন্য ৫ লাখ টাকার একটি এফডিআর করা হবে। এ সহায়তা কার্যক্রম ময়মনসিংহ জেলার তারাকান্দা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়িত হবে। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে এসব তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, গত ১৮ ডিসেম্বর ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা উপজেলার স্কয়ার মাস্টারবাড়ি এলাকায় দীপু চন্দ্র দাস (দীপু দাস) নামের এক সনাতন ধর্মাবলম্বী যুবককে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে করে হত্যা করা হয়। কথিত অবমাননাকর মন্তব্যের অভিযোগে গণপিটুনির মাধ্যমে তাকে গাছে ঝুলিয়ে এ নৃশংস হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়, যা সে সময় সাম্পদায়িক সহিংসতা হিসেবে গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।
প্রধান উপদেষ্টার পরামর্শে গত ২৩ ডিসেম্বর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. সি. আর. আবরার ময়মনসিংহ জেলার তারাকান্দা উপজেলার বানিহালা ইউনিয়নের মোকামিয়াকান্দা গ্রামে নিহত দীপু দাসের বাড়ি পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি দীপু দাসের পরিবারের প্রতি সরকারের পক্ষ থেকে সহমর্মিতা জানান।
এতে আরো বলা হয়, যেহেতু দীপু দাস পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন, সেহেতু তার পরিবারের বসবাসের জন্য একটি পাকাঘর নির্মাণসহ পরিবারের সার্বিক সুরক্ষার লক্ষ্যে আর্থিক সহায়তা দেয়ার আশ্বাস সরকারের পক্ষ থেকে দেয়া হয়।
শিক্ষা উপদেষ্টা ড. সি. আর. আবরার বলেন, দীপু চন্দ্র দাসের হত্যাকাণ্ড একটি নৃশংস অপরাধ, যার কোনো অজুহাত নেই এবং আমাদের সমাজে এর কোনো স্থান নেই। তার পরিবারেরকে সহায়তার যে প্রচেষ্টা সরকার করেছে তা একটি জীবনের তুলনায় কিছুই নয়। রাষ্ট্র নিশ্চয়ই সুবিচার নিশ্চিত করবে।
তিনি বলেন, সাম্প্রদায়িক উন্মাদনা ছড়িয়ে যেভাবে দীপু দাসকে হত্যা করা হয়েছে তা পুরো জাতির জন্য লজ্জার। ন্যায়বিচারই কেবল এই লজ্জা থেকে আমাদের মুক্তি দিতে পারে।
তিনি বলেন, আমরা একটি রাষ্ট্র ও সমাজ হিসেবে সব ধর্ম, জাতিগোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের মানুষের মতপ্রকাশের শান্তিপূর্ণ অধিকারকে সম্মান করি—যতক্ষণ তা অন্যের প্রতি সম্মান বজায় রেখে করা হয়। মতভেদ বা আপত্তির মুহূর্তেও কোনো ব্যক্তি আইন নিজের হাতে তুলে নেয়ার অধিকার রাখে না।
পোস্টে আরো উল্লেখ করা হয়, এ ঘটনায় সরাসরি জড়িত ১২ জনকে এরইমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তদন্ত চলমান রয়েছে। শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, এ ঘটনায় যারা দায়ী, তাদের সবাইকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিচারের আওতায় আনা হবে।









