চুয়াডাঙ্গার সদর উপজেলার ডিঙ্গেদহের হাটখোলা গ্রামের কৃষক দলিল উদ্দিন মোল্লা। প্রশিক্ষিত আধুনিক কৃষক হিসেবে এলাকায় তার পরিচিতি রয়েছে। অবশ্য তার কারণও রয়েছে অনেক। অন্য কৃষকদের তুলনায় তার আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারের মাত্রা অনেক বেশি। আগাছা দমন ও আর্দ্রতা ধরে রাখতে ব্যবহার করেন মালচিং ফিল্ম, কলায় ব্যবহার করেন ব্যাগিং প্রযুক্তি, মাছি পোকা দমনে ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার করেন তিনি। এসব আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার তার খরচ যেমন বাঁচিয়েছে তেমনি বিভিন্ন ফল-ফসল আবাদ করে লাভের মুখও দেখছেন তিনি। এবার একই জমিতে এক মৌসুমে তিনটি ফসল আবাদ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন দলিল উদ্দিন।
সরেজমিন তার ফসলের মাঠ ঘুরে দেখা যায়, কয়েকজন শ্রমিক মরিচ তুলছেন আর দলিল উদ্দিন মোল্লা কলার মোচায় ব্যাগিং করছেন। প্রতি সারি কলাগাছের মাঝ বরাবর সবুজ কার্পেটের মতো রয়েছে একাঙ্গী (মসলা জাতীয় ফসল)।
দলিল উদ্দিন মোল্লা বলেন, জমিতে একই ফসল আবাদ না করে বিভিন্ন রকমের ফসল আবাদ করছি। একটা জমিতে যেমন আছে লাউ, আবার অন্য জমিতে মাষকলাই, আলু, বেগুন। আর ২৫ শতক জমিতে আবাদ করেছি একসঙ্গে তিন ফসল। ইউটিউবে কৃষি বায়োস্কোপের ভিডিওতে দুই বছর আগে পেয়ারা বাগানে দুই সারির মাঝখানে একাঙ্গীর আবাদ করতে দেখি। এ বছর কৃষি অফিসের পরামর্শে ও নিজ উদ্যোগে কলা, মরিচ ও একাঙ্গী আবাদ শুরু করি। প্রথমে মনে হচ্ছিল, তিনটি ফসল একসঙ্গে হবে না। এখন দেখছি সবগুলোই ভালো হয়েছে। এর মধ্যে ৭০ হাজার টাকার মরিচ বিক্রি করা হয়ে গেছে।
উপজেলা কৃষি অফিসার তালহা জুবাইর মাসরুর জানান, কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাকের নির্দেশনা অনুযায়ী চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে বাণিজ্যিক কৃষির সম্প্রসারণে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কৃষকদের প্রশিক্ষণ, পরামর্শ ও উদ্ভাবনী বিভিন্ন উদ্যোগ মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়নের কাজ চলছে। দলিল উদ্দিন মোল্লার একই জমিতে তিন ফসলের চাষ এক ধরনের মাল্টি লেয়ার মিক্সড ক্রপিং টেকনিক। যেখানে একাধিক ফসল একই জমিতে, একই সময়ে চাষ করা হয়। এর ফলে জমির সর্বোত্তম ব্যবহার যেমন নিশ্চিত হয়, তেমনি কম খরচে একাধিক ফসল উৎপাদনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট একটা জমি থেকে অধিক আয় করা সম্ভব হয়। আবাদি জমি দিন দিন কমছে কিন্তু খাদ্য চাহিদা বাড়ছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে একই জমি থেকে অধিক ফসল উৎপাদনের কৌশল উদ্ভাবন করাটা সময়ের দাবি।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ও কৃষি বায়োস্কোপের উপদেষ্টা হামিদুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে এক ইঞ্চি আবাদি জমিও যেন পতিত না থাকে। সেই নির্দেশনার সফল বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে এ মিশ্র ফসল চাষের মডেলে।










