অব্যবহূত পরিত্যক্ত কলাগাছের বাকল থেকে সুতা তৈরি করছেন চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার পাটাচোরা গ্রামের উদ্যোক্তা শাহিন আলী। এ সুতা দিয়ে পাপোশ, টেবিলম্যাট, বাজারের ব্যাগসহ বিভিন্ন পরিবেশবান্ধব হস্তশিল্প পণ্য তৈরি করছেন তিনি। তৈরি পণ্যগুলো বিদেশেও রফতানি হচ্ছে।

চুয়াডাঙ্গা জেলা শহর থেকে ১৬ কিলোমিটার ও দামুড়হুদা উপজেলা শহর থেকে সাত কিলোমিটার দূরে পাটাচোরা গ্রামের অবস্থান। এ গ্রামের যুবক শাহিন আলী ছোটবেলা থেকেই ঝোঁক পরিবেশবান্ধব পণ্য ব্যবহারের প্রতি। তার এ আগ্রহ আরো বেড়ে যায় মালোয়েশিয়া ও ভারতের কলকাতায় অবস্থানের সময়। সেখান থেকে ফিরে ২০২০ সালের মাঝামাঝি অব্যহূত পরিত্যক্ত কলাগাছের বাকল সংগ্রহ করেন। পরে ওই বাকল মেশিনে দিয়ে সুতা বের করেন তিনি। এরপর তা পানিতে ধুয়ে রোদে শুকিয়ে বিভিন্ন ধরনের পণ্য তৈরি করেন। সুতা তৈরি শেষে কলাগাছের বর্জ্য থেকে ভার্মি কম্পোস্ট সারও তৈরি করছেন তিনি। এ কাজের সঙ্গে ওই গ্রামের ছাত্রী, বিধবা, স্বামী পরিত্যক্তা, প্রতিবন্ধীসহ শতাধিক নারীকে যুক্ত করেছেন। তাদের দক্ষ করে তুলতে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছে দামুড়হুদা উপজেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর।

দামুড়হুদা উপজেলার পাটাচোরা গ্রামের স্বামী পরিত্যক্তা হীরা মণি, দেওলী গ্রামের গৃহবধূ রত্না ও রুনা এবং কলেজছাত্রী পাপিয়া বাড়ির উঠানে বসে রকমারি পণ্য তৈরি করতে করতে জানান, তারা উপজেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ নিয়ে পরিত্যক্ত কলাগাছের সুতা দিয়ে বিভিন্ন রকম পণ্য তৈরি করছেন। এর ফলে তারা আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়েছেন।

কৃষি উদ্যোক্তা শাহিন আলী বলেন, পাটাচোরা গ্রামে কলাগাছের সুতা থেকে বেনুনি করে পাপোশ, টেবিলম্যাট, বাজারের ব্যাগ, ওয়ালম্যাট, ভ্যানিটিব্যাগ, শো-পিচ, ট্রে, অলঙ্কারসহ বিভিন্ন পণ্য তৈরি করছেন। এছাড়া পরিত্যক্ত কলাগাছ থেকে সুতা ও এর বর্জ্য থেকে ভার্মি কম্পোস্ট সার, জৈব সার তৈরি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, সরকারের সহায়তা পেলে তার কর্মক্ষেত্রে আরো বেকার জনবল নিয়োগ সম্ভব হবে।

দামুড়হুদা উপজেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশিক্ষক নাসরিন খাতুন জানান, গ্রামের অসহায় দরিদ্র নারী এবং ছাত্রীদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার জন্য তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষতা বাড়ানো হচ্ছে। প্রশিক্ষিত হয়ে তারা পরিত্যক্ত কলাগাছ থেকে তৈরি সুতা ব্যবহার করে অত্যন্ত সুন্দর করে নানা রকমের পণ্য বানাচ্ছেন। এ পণ্যগুলো মানসম্মত করে প্রস্তুত করার জন্যই যুব উন্নয়ন এ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নিয়েছে।

উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেন, যুব মহিলাদের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করতে কাজ করে যাচ্ছে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহায়তায় পাটাচোরা গ্রামের কৃষি উদ্যোক্তা শাহিন আলীকে সফল হতে সহযোগিতা দেয়া হচ্ছে। তিনি সফল হলে গ্রামীণ জনপদের আর্থসামাজিক উন্নয়ন সম্ভব। কাজ করে অনেক বেকার নারী প্রতিষ্ঠিত হতে পারবেন। শাহিন আলী পরিত্যক্ত কলাগাছ থেকে সুতা তৈরি করছেন। এ সুতা থেকে বিভিন্ন পণ্য তৈরি করছেন নারীরা। ওইসব নারীকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সে পণ্য দেশের বাজারে বিক্রির পাশাপাশি বিভিন্ন দেশে রফতানির চেষ্টা করা হচ্ছে।