ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক সম্পাদক মো. জিসান মিয়া প্রধানকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার দিবাগত রাত ১০টার দিকে কুমিল্লার লাকসাম রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে একটি ধর্ষণ মামলা হয়েছে। আজ শনিবার কুমিল্লা পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এমনটা জানানো হয়েছে।
কুমিল্লা জেলা পুলিশ জানায়, গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে দাউদকান্দি বাজার এলাকা থেকে জিসান নিখোঁজ হন উল্লেখ করে শুক্রবার দাউদকান্দি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন মো. রাসেল আহম্মেদ। এরপর জেলা পুলিশের একাধিক দল তাকে উদ্ধারে অনুসন্ধান শুরু করে।
তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, প্রায় পাঁচ থেকে ছয় মাস আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ২৫ বছর বয়সী বিধবা নারীর সঙ্গে জিসানের পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এ ধারাবাহিকতায় গত ২০ মে জিসানের ভাড়া বাসায় ওই নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন সময়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের ফলে ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন।
পুলিশের দাবি, পরে জিসান ওই নারীকে গর্ভপাত করানোর জন্য চাপ দেন এবং একপর্যায়ে তার এক বন্ধুর ফার্মেসি থেকে ওষুধ এনে খাওয়ানোর মাধ্যমে ভ্রূণ নষ্ট করা হয়। এ ঘটনায় জিসানের কয়েকজন সহযোগীর সম্পৃক্ততার তথ্যও পাওয়া গেছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভুক্তভোগী নারী বিয়ের জন্য চাপ দিলে জিসান ১২ জুন বিয়েতে রাজি হওয়ার কথা জানান। তবে বিয়ে এড়াতে তিনি ১১ জুন রাতের পর আত্মগোপনে চলে যান এবং তার স্বজনের মাধ্যমে নিখোঁজের জিডি করান। পরবর্তীতে অনুসন্ধানের একপর্যায়ে লাকসাম থানা এলাকার স্থানীয় লোকজন ও পুলিশের সহায়তায় আত্মগোপনে থাকা জিসানকে উদ্ধার করা হয়।
এদিকে ভুক্তভোগী নারী থানায় উপস্থিত হয়ে জিসানকে প্রধান আসামি করে ধর্ষণ, ধর্ষণে সহযোগিতা এবং ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগে মামলা করেছেন। মামলাটি দাউদকান্দি থানায় রুজু করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।










