নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে এবং পরিবহন খাতে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন রেলপথ এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ।
তিনি বলেন, নারীদের জন্য পেশাগত প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার মাধ্যমে পরিবহন খাতে তাদের অংশগ্রহণ আরো সম্প্রসারণে সরকার কাজ করছে।
রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টার অডিটোরিয়ামে আজ ব্র্যাক সড়ক নিরাপত্তা কর্মসূচি আয়োজিত ‘উইমেন বিহাইন্ড দ্য হুইল: সেলিব্রেটিং অ্যাচিভমেন্ট, অ্যাডভান্সিং রোড সেফটি অ্যান্ড ইনক্লুসিভ ট্রান্সপোর্ট’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করে ব্র্যাক এন্টারপ্রাইজেসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তামারা হাসান আবেদ।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নযাত্রায় নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি অন্যতম অগ্রাধিকার। দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক প্রতিবন্ধকতা ও প্রচলিত ধারণার কারণে পরিবহন খাতে নারীদের উপস্থিতি সীমিত থাকলেও বর্তমানে সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হচ্ছে। নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর মাধ্যমে একটি নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং মানবিক পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।
ব্র্যাকের ‘ফোর হুইলস টু ফ্রিডম’ উদ্যোগের মাধ্যমে এরই মধ্যে ১৭৯ জন সুবিধাবঞ্চিত ও স্বল্প আয়ের নারী পেশাদার চালক হিসেবে প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। এছাড়া ব্র্যাক ড্রাইভিং স্কুল দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ৪ হাজার ৫০০-এর বেশি নারীকে পেশাদার ও অপেশাদার ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ দিয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার সড়ক নিরাপত্তা উন্নয়ন এবং নারী ক্ষমতায়নে দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, নিরাপদ সড়ক অবকাঠামো উন্নয়ন, গতি নিয়ন্ত্রণ এবং গণপরিবহন ব্যবস্থার আধুনিকায়নের পাশাপাশি নারী চালকদের জন্য পেশাগত প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্স উন্নয়ন কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থাপিত মূল প্রবন্ধে জানানো হয়, ২০০১ সাল থেকে ব্র্যাক সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করছে। ২০১২ সাল থেকে দেশের ১৩টি ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রায় ১২ হাজার ৫০০ জনকে বেসিক ড্রাইভিং এবং ১৩ হাজার ৫০০ জনকে ডিফেন্সিভ ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ৪০৯ জন ড্রাইভিং প্রশিক্ষক তৈরি করা হয়েছে।
উপস্থাপিত তথ্যানুযায়ী, ব্র্যাকের সড়ক নিরাপত্তা কর্মসূচি বর্তমানে চালক প্রশিক্ষণ, সড়ক নিরাপত্তা শিক্ষা, গবেষণা, অ্যাডভোকেসি, জরুরি চিকিৎসা সেবা এবং নারী ও কিশোরীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। প্রতিষ্ঠানটি এ পর্যন্ত পাঁচ লাখ ২৫ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী ও শিক্ষককে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে শিক্ষা দিয়েছে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য আন্না মিনজ, সরকারি বিভিন্ন সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী, বেসরকারি খাতের প্রতিনিধি, পরিবহন বিশেষজ্ঞ এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারী চালকরা অংশ নেন।










