সাতক্ষীরা পৌর শহরের অধিকাংশ ব্যস্ততম সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব সড়ক সংস্কার বা মেরামত না করার ফলে পিচ ঢালাইয়ের কার্পেটিং উঠে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত। এসব গর্তে পানি জমে কাদা তৈরি হওয়ায় যানবাহনের পাশাপাশি পথচারীদের চলাচলে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। ভাঙাচোরা সড়কগুলোতে প্রায় যানবাহন আটকে ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। পাশাপাশি সড়কে খানাখন্দ মাড়িয়ে  ধীরগতিতে চলায় কোথাও কোথাও যানজটও সৃষ্টি হচ্ছে।

পৌর এলাকার মধ্যে খানাখন্দের কারণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে সুলতানপুর বড় বাজার সড়ক, পোস্ট অফিসের মোড় হয়ে সরকারি কলেজ সড়ক, সঙ্গীতা সিনেমা মোড় থেকে রাধানগর সড়ক, কাটিয়া সরকার পাড়া, ধোপা পাড়া থেকে লস্কার পাড়া সড়ক, মুনজিতপুর সড়ক ও পুরাতন সাতক্ষীরা ঘোষপাড়া থেকে মুন্সিপাড়া সড়ক।

পৌর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে চাহিদামাফিক উন্নয়ন বরাদ্দ না পাওয়ায় এসব সড়ক এবং সংলগ্ন ড্রেন ও কালভার্ট সংস্কার করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে একটি দাতা সংস্থার বড় বরাদ্দ আসার কথা রয়েছে, সেটি পেলেই সাতক্ষীরা পৌরসভার নয়টি ওয়ার্ডের সব রাস্তাঘাট মেরামত বা নতুন করা হবে।

সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক মো. আনিসুর রহিম জানান, প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা হওয়া সত্ত্বেও কোনো উন্নয়ন নেই সাতক্ষীরায়। তিনি বলেন, শহরের সবচেয়ে ব্যস্ততম সড়ক হচ্ছে সুলতানপুর-বড় বাজার সড়ক। এ সড়কের পিএন হাইস্কুলের মোড় থেকে ডে-নাইট কলেজ পর্যন্ত সড়কটি বড় বড় গর্ত আর কাদামাটিতে একাকার হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। অথচ প্রতিদিন শহরের হাজার হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হয়ে বাজারঘাটসহ অন্যান্য গন্তব্যে যাতয়াত করে। একই অবস্থা শহরের অন্যতম ব্যস্ত সড়ক সঙ্গীতা সিনেমা মোড় থেকে রাধানগর পর্যন্ত। সড়কের কার্পেটিং উঠে ছোট-বড় অসংখ্য খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমান সড়কটির এমন বেহাল দশা যে যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। তিনি আরো বলেন, শুধু সড়ক নয় ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় শহরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। পর্যাপ্ত ডাস্টবিন না থাকায় শহরের বিভিন্ন সড়কে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলা হয়।

এ ব্যাপারে সাতক্ষীর পৌর মেয়র তাসকিন আহমেদ চিশতি জানান, ঈদের দু-একদিন আগে থেকে শহরের বেশকিছু সড়কে চলাচলের জন্য আপাতত ইট-বালি দিয়ে রুলার টেনে দেয়া হয়েছে। আগামীতে বরাদ্দ পেলে টেকসই সংস্কার করা হবে।