নভেল করোনাভাইরাসের কারণে দেশে-বিদেশে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে প্রবাসীদের। এমনকি দেশে থাকা তাদের স্বজনদেরও নানা সমস্যায় পড়তে হয়েছে। কর্মহীন হয়ে পড়া প্রবাসীদের পুনর্বাসন ও আর্থিক সচ্ছলতা আনতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর ধারাবাহিকতায় কাজের পরিধি বাড়ানো হচ্ছে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের। এজন্য নতুন করে ১৫টি আঞ্চলিক কার্যালয়, নয়টি করপোরেট শাখা ও ২৩০টি সি ক্যাটাগরির শাখা খোলার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
জানা গেছে, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংককে শক্তিশালী করতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমদের সভাপতিত্বে ১ সেপ্টেম্বর সংশ্লিষ্টদের নিয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ২০২৫ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে ১৫টি আঞ্চলিক কার্যালয়, নয়টি করপোরেট শাখা ও ২৩০টি সি ক্যাটাগরির শাখা খোলার সিদ্ধান্ত নেয়া হয় সভায়। আর এজন্য নতুন করে ২ হাজার ৩১১টি পদ সৃষ্টির লক্ষ্যে ৩ হাজার ৩৬ জনবলবিশিষ্ট প্রণয়নকৃত সংশোধিত সাংগঠনিক কাঠামো অনুমোদনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
সভা সূত্রে জানা গেছে, নতুন চালু হতে যাওয়া প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের প্রতিটি সি ক্যাটাগরির শাখায় আটজন করে জনবল ঠিক করা হয়েছে। এর মধ্যে সিনিয়র অফিসার একজন, অফিসার দুজন, সহকারী অফিসার দুজন, অফিস সহকারী একজন ও নিরাপত্তা প্রহরী দুজন। প্রস্তাবিত সাংগঠনিক কাঠামোতে অন্তর্ভুক্ত নতুন পদগুলো তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করে সংশোধিত চাকরি প্রবিধিমালা অনুমোদনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ।
জানা গেছে, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের কার্যপরিধি বিবেচনা এবং তফসিলি কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরেই ন্যূনতম ৩৭টি সি ক্যাটাগরির নতুন শাখা খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়। এজন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন পেতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে জানানো হয়েছে। অন্যদিকে যেসব টিসিসিতে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের শাখা খোলার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা রয়েছে এবং ভল্ট স্থাপনসহ তফসিলি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বাণিজ্যিকভাবে উপযুক্ত, সেসব টিসিসিতে ব্যাংকের শাখা খোলার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়।
এ প্রসঙ্গে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. আসাদুল ইসলাম বলেন, একটি বিশেষায়িত তফসিলি ব্যাংক হিসেবে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হলেও এর সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগানো যায়নি। ব্যাংকটিকে শক্তিশালী করতে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা দেয়া হবে।
এদিকে সভায় জানানো হয়, কভিড-১৯-এর কারণে ক্ষতিগ্রস্ত অভিবাসী বাংলাদেশী কর্মী অথবা প্রবাসে মৃত কর্মীর পরিবারের একজন উপযুক্ত সদস্যকে পুনর্বাসনের জন্য প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের তহবিল এবং প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ঘোষিত ৫০০ কোটি টাকার মধ্যে প্রাপ্ত ২৫০ কোটি টাকা বিতরণের অ্যাকশন প্ল্যান প্রণয়নের উদ্যোগ নেবে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক।
প্রসঙ্গত, নভেল করোনাভাইরাসের প্রভাবে প্রবাসে কর্মহীন হয়ে পড়া প্রবাসীদের পুনর্বাসনের জন্য ও অর্থনৈতিক সচ্ছলতা আনতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সেজন্য গত মে মাসে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকে আরো ৫০০ কোটি টাকা আমানত দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।










