বাগেরহাটে অর্ধেকের কম স্বাস্থ্য সহকারী নিয়ে চলছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কার্যক্রম। এতে কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এ জেলাবাসী। এদিকে শূন্য পদে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আট বছরেও সম্পন্ন হয়নি স্বাস্থ্য সহকারীদের নিয়োগ কার্যক্রম। দীর্ঘদিনেও নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন চাকরি প্রত্যাশীরা। কী কারণে নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ রয়েছে, এ বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো তথ্য নেই জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে। নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করেও কোনো ফল মেলেনি বলে জানিয়েছেন সিভিল সার্জন ডা. কেএম হুমায়ুন কবির।

বাগেরহাট সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বাগেরহাট জেলায় ৩৩১টি স্বাস্থ্য সহকারীর পদ রয়েছে। এসব পদের অনুকূলে ১৬৫ জন কর্মরত রয়েছেন। এ হিসেবে অর্ধেকের বেশি ১৬৭টি স্বাস্থ্য সহকারী পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে বাগেরহাট সদর উপজেলায় ৩৪টি, মোল্লাহাটে ১৫, ফকিরহাটে ১৬, চিতলমারীতে ১০, কচুয়ায় ১১, মোরেলগঞ্জে ৩৬, রামপালে ২২, মোংলায় ৯ ও শরণখোলায় ১৪টি শূন্য পদ রয়েছে। এসব শূন্য পদ পূরণের লক্ষ্যে ২০১৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর পত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্রকাশ করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বিজ্ঞপ্তিতে বাগেরহাটে ১০৯টি স্বাস্থ্য সহকারী পদে নিয়োগের কথা বলা হয়। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগকে নিয়োগ সম্পন্ন করার নির্দেশ দেয়া হয়। এ নিয়োগ কার্যক্রম শেষ না হলেও ২০১৮ সালে আরো ৪০টি শূন্য পদের অনুকূলে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। কিন্তু দুটি নিয়োগ কার্যক্রমই অসম্পূর্ণ রয়েছে। যার ফলে জেলার মানুষ যেমন স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। নিয়োগ প্রত্যাশীরাও হতাশায় ভুগছেন। অতিরিক্ত কাজ করতে হচ্ছে চাকরিরত স্বাস্থ্য সহকারীদের।

মোরেলগঞ্জ উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কামাল হোসেন মুফতি বলেন, স্বাস্থ্য সহকারীরা স্বাস্থ্য বিভাগের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ। তারা ইপিআই (টিকাদান) কার্যক্রম পরিচালনা, স্থানীয় মানুষকে স্বাস্থ্য সচেতন করা, বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা সম্পর্কে পরামর্শ দেয়াসহ নানা ধরনের স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে থাকেন। আমাদের এ উপজেলায় ৬৪টি স্বাস্থ্য সহকারী পদের অনুকূলে মাত্র ২৮ জন কর্মরত আছেন। ফলে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমরা বিড়ম্বনার শিকার হই। স্বেচ্ছাসেবক দিয়ে কোনোমতে কাজ চালিয়ে নিতে হয়। দ্রুত নিয়োগ বাস্তবায়ন হলে স্বাস্থ্যসেবার আরো উন্নতি করা সম্ভব।

চাকরি প্রত্যাশী সিদ্ধার্থ শংকর পাইক ও বেলাল হোসেন বলেন, ২০১৪ সালে স্বাস্থ্য সহকারী পদে জেলায় অনেকগুলো শূন্য পদ দেখে আশা নিয়ে আবেদন করেছিলাম। পড়াশোনাও করেছিলাম। লিখিত পরীক্ষাও দিয়েছি। কিন্তু আজও নিয়োগের কোনো খবর পেলাম না। এদিকে চাকরির আশায় আশায় বয়সও প্রায় শেষ। নিয়োগ কার্যক্রম শেষ হয়ে গেলে চাকরি না হলেও কোনো আপসোস থাকত না। কারণ এ চাকরির আশায় অন্য কোনো কাজেও প্রবেশ করা হয়নি। আমরা চাই অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে আমাদের এ নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হোক।

বাগেরহাটের সিভিল সার্জন ডা. কেএম হুমায়ুন কবির বলেন, স্বাস্থ্য সহকারীদের পদ শূন্য থাকার কারণে আমাদের ইপিআই ও স্বাস্থ্য শিক্ষা কার্যক্রম সম্পূর্ণ করতে বেগ পেতে হচ্ছে। এ শূন্য পদগুলো পূরণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার লিখিতভাবে জানিয়েছি। আশা করি, এবার হয়তো নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারব।