সুনামগঞ্জে বজ্রপাতে আরো একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আজ শনিবার সকাল ১০টা থেকে দুই ঘণ্টার কালবৈশাখী ঝড়ের সময় বজ্রপাতের চার কৃষকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেল। জেলার দিরাই, শাল্লা ও দক্ষিণ সুনামগঞ্জ এবং জগন্নাথপুরে পৃথক পৃথকভাবে বজ্রপাতের ঘটনায় এই চার কৃষক মারা গেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, জেলার শাল্লা উপজেলার ডান্ডারবিল হাওরে ধান কাটতে যান শঙ্কর সরকার (২৮)। সকাল ১০টায় কালবৈশাখী ঝড় শুরু হয় এবং বজ্রপাতের ঘটনাও ঘটে। এসময় শঙ্কর সরকার হাওর থেকে বাড়িতে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে নিহত হন।
পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে শাল্লা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহত হলেন, উপজেলার হবিবপুর ইউনিয়নের নারায়নপুর গ্রামের সুরেন্দ্র সরকারের ছেলে।
একই সময়ে দিরাই উপজেলার সরমংগল ইউনিয়নের উৎগল হাওরের টিলাউড়াবন্দে ধান কাটার সময় তাপস মিয়া (৩৫) নামের এক কৃষক মারা যান। নিহত তাপস মিয়া হবিগঞ্জ জেলার আজমিরীগঞ্জ উপজেলার জলসুকা গ্রামের মফিজ উল্লার ছেলে।
জগন্নাথপুর উপজেলার নলুয়ার হাওরে কাজ করার সময়ে শিপন মিয়া (৩৩) নামের আরেকজন মারা যায়। এসময় বজ্রপাতে শিপন মিয়ার একটি গরুও মারা যায়। তিনি উপজেলার চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়নের বাউধরন গ্রামের মৃত তবারক মিয়ার ছেলে।
এদিকে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার দেখার হাওরে বজ্রপাতে মারা যান ফরিদ মিয়া (৩৫) নামের আরেকজন কৃষক। তিনি উত্তর গাজীনগর গ্রামের আমিরুল ইসলামের ছেলে। এসময় দুটি গরুও মারা যায়।
শাল্লা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার আবুল ফাত্তাহ সাদী জানান, বজ্রপাতের ঘটনায় শঙ্কর সরকার পথেই মারা গেছেন। এরপর স্বজনরা তাকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে এসেছিলেন।
দিরাই উপজেলার সরমঙ্গল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এহসান চৌধুরী জানান, কৃষক তাপস মিয়া ধান কাটতে জলসুখা থেকে সরমঙ্গলে এসেছেন। শনিবার সকালে তিনি অন্যদের সঙ্গে পাশের উৎগল হাওরের টিলাউড়াবন্দে ধান খাটতে গিয়েছিলেন। হাওরে ঝড়, শিলাবৃষ্টি ও বজ্রপাত শুরু হলে তাপস দৌড়ে সরমঙ্গল গ্রামে ফেরার চেষ্টা করেন। এসময় পথেই বজ্রপাতের ঘটনায় তার মৃত্যু হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কেএম নজরুল ইসলাম।
জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী জানান, বাউধরণ গ্রাম পার্শ্ববর্তী হাওরে বজ্রপাতে এক কৃষকের মৃত্যুর খরব স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য জানিয়েছেন তাকে।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্তকর্তা (ওসি) হারুন অর রশীদ চৌধুরী জানান, বেলা সাড়ে ১১ টায় উপজেরার দেখার হাওরে বজ্রপাতের ঘটনায় ফরিদ মিয়া নামের ওই কৃষক মারা যান। এসময় তার দুটি গরুও মারা গেছে।









