নগদ টাকার সংকটে ভুগছেন বগুড়ার চামড়া ব্যবসায়ীরা। কারণ ঢাকার ট্যানারি মালিকদের কাছে বছরের পর বছর তাদের মোটা অংকের টাকা আটকে রয়েছে। ট্যানারি মালিকদের কাছে বার বার ধরনা দিলেও তারা বকেয়া টাকা পরিশোধ করছেন না। গত বছরের চামড়ার টাকা এখনো পাননি বগুড়ার ব্যবসায়ীরা। এ বছর কী হবে, তা নিয়ে শঙ্কায় ব্যবসায়ীরা।
বগুড়া জেলা চামড়া মালিক সমিতি সূত্রে জানা যায়, এ সমিতির আওতায় সদস্য রয়েছে ৩৮৭ জন। যারা প্রত্যেকেই এবারো ধারদেনা করে চামড়া কেনার প্রস্তুতি নিয়েছেন।
গত বছর বগুড়া শহরের সাতমাথা, চামড়াপট্টি, চকসূত্রাপুর, বাদুড়তলা, চকযাদু ক্রসলেন, থানামোড়, চেলোপাড়া, শহরের বাহিরে ঠনঠনিয়া, কলোনি, বনানী, মাটিডালি, শাকপালাসহ কমপক্ষে ১০০ স্পটে কোরবানির ঈদের দিন চামড়া সংগ্রহ করেছেন ব্যবসায়ীরা। এ বছর বগুড়ায় কোরবানির চামড়ার বাজার নিয়ে চিন্তিত চামড়া ব্যবসায়ীরা। প্রক্রিয়াজাত করার প্রধান কাঁচামাল লবণের দ্বিগুণ মূল্য বৃদ্ধি, শ্রমিকের বাড়তি মজুরির চাপ এবং গত কয়েক বছরের বকেয়া টাকা পরিশোধ না করার কারণে এ বছরও চামড়ার বাজারে ধস দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।
বগুড়ার চকসূত্রাপুরের চামড়া ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত কয়েক বছর বিক্রীত চামড়ার দাম পাওয়া যাচ্ছে না। ঢাকার ট্যানারি মালিকরা বলছেন, নানা অজুহাতে চামড়ার দাম দেননি। গতকাল পর্যন্ত ঢাকার মালিকদের সঙ্গে একাধিকবার যোগযোগ করেও কোনো টাকা যাওয়া যাচ্ছে না। এ টাকা না পাওয়া গেলে কী দিয়ে বগুড়ার ব্যবসায়ীরা চামড়া কিনবেন।
বগুড়ার একাধিক ব্যবসায়ীর অভিযোগ, বগুড়ার বাজার থেকে প্রায় শতকোটি টাকার ওপরে চামড়া কেনাবেচা হয়। কিন্তু চামড়ার রফতানি কমে যাওয়ার অজুহাত তুলে বকেয়া টাকা দিতে বিলম্ব করা হচ্ছে। ঈদে চামড়া না দিলে বাকি টাকা পরিশোধ করা হবে না, এমন শর্ত জুড়ে দেয়ায় বগুড়ার ব্যবসায়ীরা এখন ধারদেনা করে চামড়া কেনার প্রস্তুতি শুরু করেছেন।
বগুড়া জেলা চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুুল মতিন সরকার জানান, ঢাকার ট্যানারি মালিকদের কাছ থেকে বগুড়ার চামড়া ব্যবসায়ীরা প্রায় ৩০ কোটি টাকা পাবেন। পাওনা পরিশোধে তাদের অনুরোধ করা হয়েছে। তার পরও বগুড়ার ক্ষুদ্র ও চামড়া ব্যবসায়ীরা এখনো বকেয়া টাকা পাননি। টাকা না পেলে চামড়া কেনা কষ্টকর হয়ে উঠবে। অনেকেই হয়তো ধারদেনা করে চামড়া কেনাবেচা করবেন। এই ব্যবসা না করতে পারলে সারা বছর লোকসানে থাকতে হবে বলেই ধারদেনা করে বগুড়ার চামড়া ব্যবসায়ীরা প্রস্তুতি নিয়েছেন।










