জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে আজ হচ্ছে গণভোটও। রাষ্ট্র সংস্কারে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন ও একটি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতেই এ ভোট।

গণভোটের প্রশ্নে চারটি ভাগ রয়েছে জুলাই সনদে থাকা সংবিধান-সংক্রান্ত ৪৮টি সংস্কার প্রস্তাব। তবে ভোটাররা গণভোটে মতামত জানাবেন, সাতটি সংস্কারের বিষয়ে। এগুলো হলো তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও পিআর পদ্ধতিতে উচ্চকক্ষ গঠন এবং নির্বাচন কমিশনসহ পাঁচ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ পদ্ধতি।

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে সাতটি সংস্কার ১৮০ কার্যদিবসে বাস্তবায়ন করতে হবে আজকের নির্বাচনে জয়ী সংসদ সদস্যদের নিয়ে গঠিত সংবিধান সংস্কার পরিষদকে। ‘না’ জয়ী হলে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হবে না। সংস্কার বাস্তবায়নের বাধ্যবাধকতা থাকবে না। নির্বাচনে জয়ী দল ও সংসদ চাইলে সংস্কার করতে পারে।

৪৮টি সংস্কার প্রস্তাবের মধ্যে ৩০টিতে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ সব রাজনৈতিক দলের ঐকমত্য রয়েছে। এর মধ্যে নির্বাচন কমিশনের গঠন পদ্ধতিও রয়েছে। কিন্তু বাস্তবায়নের বাধ্যবাধকতার জন্য এ প্রস্তাবটি গণভোটের প্রথম ভাগে রাখা হয়েছে।

এ ৩০ সংস্কার প্রস্তাবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো কেউ ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী পদে থাকতে পারবেন না। উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগের ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর হাতে থাকবে না।

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জিতলে বাস্তবায়ন বাধ্যতামূলক হবে জুলাই সনদের ৩, ১৬, ১৮, ১৯, ৩৮, ৩৯, ৪০, ৪১ এবং ৪২ নম্বর সংস্কার প্রস্তাব। এসব প্রস্তাবে মূলত সাতটি বিষয় রয়েছে। ৩, ১৮ এবং ১৯ প্রস্তাব হচ্ছে সংবিধান সংশোধন ও উচ্চকক্ষ-সংক্রান্ত।

‘হ্যাঁ’ জিতলে ভবিষ্যতে সংবিধান সংশোধনে সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ এবং উচ্চকক্ষের সমর্থন লাগবে। উচ্চকক্ষ পিআর পদ্ধতিতে গঠিত হবে। নির্বাচনের আগেই দলগুলোকে জানাতে হবে, কারা তাদের উচ্চকক্ষের প্রার্থী। ১০০ জন প্রার্থী দেবে প্রত্যেক দল। যে দল নির্বাচনে যত শতাংশ ভোট পাবে, ততজন এমপি পাবে উচ্চকক্ষে।

জুলাই সনদের ৩ নম্বর প্রস্তাবের মাধ্যমে জনগণকে বিশেষ একটি ক্ষমতা দেয়া হচ্ছে গণভোটে। তাহলো, ‘হ্যাঁ’ ভোট জিতলে ভবিষ্যতে সংবিধানে প্রস্তাবনা ৮, ৪৮, ৫৬, ৫৮ এবং ১৪২ অনুচ্ছেদ পরিবর্তন করতে চাইলে গণভোট লাগবে। ৫৮ অনুচ্ছেদ তত্ত্বাবধায়ক সরকার-সংক্রান্ত। ১৪২ অনুচ্ছেদ গণভোট-সংক্রান্ত। তাই ‘হ্যাঁ’ জিতলে ভবিষ্যতে গণভোটের বিধান বাতিলেও গণভোট লাগবে।

‘হ্যাঁ’ জিতলে কেউ প্রধানমন্ত্রী পদে ১০ বছরের বেশি থাকতে পারবেন না। এ নিয়ম বাতিল করতেও গণভোট লাগবে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার কীভাবে গঠিত হবে, তা রয়েছে সনদের ১৬ নম্বর প্রস্তাবে। ‘হ্যাঁ’ ভোট জিতলে তা বাস্তবায়ন বাধ্যতামূলক হবে।

জুলাই সনদের ৩৮ নম্বর প্রস্তাব নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে। বর্তমানে সার্চ কমিটি থাকলেও সংবিধানের ৪৮(৩) অনুচ্ছেদের কারণে প্রধানমন্ত্রীই আসলে নিয়োগ দেন। সনদে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা, স্পিকার, বিরোধীদলীয় ডেপুটি স্পিকার এবং প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে গঠিত কমিটি নির্বাচন কমিশনে নিয়োগ দেবে।

অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানেও কমিটির মাধ্যমে নিয়োগ হবে। বর্তমানে এসব নিযোগে প্রধানমন্ত্রীর একচ্ছত্র ক্ষমতা রয়েছে। ‘হ্যাঁ’ ভোট জিতলে প্রধানমন্ত্রী এককভাবে নয়, সরকারি দল, বিরোধী দল, অন্যান্য দল, নিরপেক্ষ প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত কমিটি নিয়োগ দেবে।