উপকূলের নদ-নদীর টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবিতে সাতক্ষীরায় কাফনের কাপড় পরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। গতকাল উপকূলের শিক্ষার্থীদের সংগঠন ম্যানগ্রোভ স্টুডেন্ট সোসাইটির আয়োজনে এ কর্মসূচিতে সর্বস্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করে।
সকাল ১০টায় জেলার শ্যামনগর উপজেলার পাতাখালি পয়েন্টে অবস্থান কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, সিডর, আইলা, মহাসেন, আম্পান ও ইয়াসের মতো একের পর এক প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ে তছনছ করে চলেছে সাতক্ষীরার উপকূল। হারিয়ে যাচ্ছে উপকূলবাসীর মাথা গোঁজার ঠাঁই। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে মৎস্য ও কৃষিসম্পদ। ভেঙে পড়ছে গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে উপকূলে টেকসই বেড়িবাঁধ না থাকা।
এলাকাবাসী আরো বলেন, গত বছর ঘূর্ণিঝড় ‘আম্পান’-এর তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় সাতক্ষীরার শ্যামনগর ও আশাশুনি উপকূল। নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয় গ্রামের পর গ্রাম। বিধ্বস্ত হয় অসংখ্য ঘরবাড়ি। ভেসে যায় হাজার কোটি টাকার ঘেরের মাছ। কিন্তু প্রতি বছর এ ধরনের দুর্যোগের হাত থেকে উপকূলবাসীদের জানমাল রক্ষা করতে হলে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের কোনো বিকল্প নেই।
ম্যানগ্রোভ স্টুডেন্ট সোসাইটির সভাপতি আরিফুল ইসলামের সভাপতিত্বে ওই অবস্থান কর্মসূচিতে আরো উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক শাহিন বিল্লাহ, তরিকুল ইসলাম, মুহতারাম বিল্লাহ, মুতাসিম বিল্লাহ, হাসানুল বান্না প্রমুখ। প্রতীকী লাশ হয়ে প্রতিবাদ জানান মাসুম বিল্লাহ, ইয়াসির আরাফাত, সালাউদ্দিন, মাহি ও সালাউদ্দিন জাফরী।
ওই কর্মসূচিতে অংশ নেয়া প্রকৌশলী ইয়াছির আরাফাত বলেন, ১২ বছর ধরে উপকূলের মানুষ জলোচ্ছ্বাসে ভাসছে। প্রতিবারই এমন পরিস্থিতিতে জনপ্রতিনিধি ও কর্তাব্যক্তিরা শুধু আশ্বাসের কিছু মুখস্থ বুলি আওড়ান। আমরা নানা ধরনের মেগা প্রকল্পের নাম শুনে আসছি, কিন্তু দুঃখের বিষয় এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর উদ্যোগ আলোর দেখা পায়নি। আমরা উপকূলের মানুষ টেকসই বেড়িবাঁধসহ এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান চাই। যদি সেটা সম্ভব না হয়, তাহলে এ অঞ্চল পরিত্যক্ত ঘোষণা করে এলাকার মানুষকে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরিত করার দাবি জানাই।
স্থানীয় রবিউল ইসলাম জানান, আম্পানে ঘরবাড়ি সব ভেঙে গেছে। গত চার বছরে পাঁচবার ঘর বানাতে হয়েছে। মাছের ঘের ডুবে গেলে সর্বস্বান্ত হয়ে যাই। একটু ঘুরে দাঁড়াতে না দাঁড়াতেই আবার বিপদে পড়ে যাই আমরা। যাওয়ারও জায়গা নেই আমাদের। বলারও জায়গা নেই। ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’-এর প্রভাবে উপকূলীয় সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর ও আশাশুনি উপজেলার বেশকিছু এলাকায় বেড়িবাঁধ ভেঙে পানি ঢুকেছে। এতে ফসলের ক্ষতি হয়েছে বেশি। হাজার হাজার পুকুর ও মাছের ঘের ভেসে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন খামারিরা। ঘরবাড়ি-রাস্তাঘাট সবকিছু পানিতে তলিয়ে গেছে।










