বিপুল পরিমাণ টাকাসহ গতকাল দুপুরে ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির বেলাল উদ্দিন প্রধানকে আটক করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে তাকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে যৌথ বাহিনী। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বেলাল উদ্দিন প্রধান নিজেকে একজন শিক্ষক বলে পরিচয় দেন। প্রাথমিকভাবে তিনি তার ব্যাগে অর্ধকোটি টাকার বেশি নগদ অর্থ থাকার কথা স্বীকার করেন এবং এগুলো তার ব্যক্তিগত গার্মেন্টসের টাকা বলে জানান।

পরবর্তী সময়ে সৈয়দপুর থানা পুলিশ জানিয়েছে, বেলাল উদ্দিন প্রধানের কাছে পাওয়া অর্থের পরিমাণ ৭৪ লাখ টাকা। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এদিন সকালে ঢাকা থেকে একটি ফ্লাইটে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছান বেলাল উদ্দিন প্রধান। এ সময় তার সঙ্গে ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের দপ্তর সম্পাদক আবদুল মান্নানও ছিলেন। আটক হওয়ার পর অসুস্থ বোধ করলে বেলাল উদ্দিনকে অ্যাম্বুলেন্সে করে সৈয়দপুর ১০০ শয্যার হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি সেখানকার হৃদরোগ বিভাগের সিসিইউ-১-এ চিকিৎসাধীন।

নীলফামারীর পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম গতকাল বলেন, ‘উদ্ধারকৃত অর্থের উৎস ও ব্যবহারের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বেলাল উদ্দিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।’

এ ঘটনাকে প্রতিপক্ষ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি অংশের সাজানো নাটক বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। গতকাল বিকালে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের আগে জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের প্রশ্নবিদ্ধ করতে পরিকল্পিতভাবে এ নাটক সাজানো হয়েছে। বেলাল উদ্দিন প্রধান নিজের ব্যবসার টাকা বহন করছিলেন। দেশে পরিবহন চলাচল সীমিত হওয়ায় তিনি বিমান বেছে নিয়েছেন। এছাড়া হযরত শাহ্‌জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ডোমেস্টিক কাউন্টারের নির্বাহী পরিচালক তাকে অনাপত্তিপত্র দিয়েছেন। তিনি বিমানে সৈয়দপুর গিয়েছেন। সেখানে যাওয়ার পর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এ নাটক সাজিয়েছেন। জামায়াতকে বিতর্কিত করতে এটি করা হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে সরকার, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছি। আমরা বলেছি, এ ঘটনার সঙ্গে যুক্ত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের আইনের আওতায় আনতে এবং বেলাল উদ্দিনকে দ্রুত মুক্তি দিতে হবে। পাশাপাশি তার চিকিৎসার ব্যবস্থা নিতে বলেছি।’

সৈয়দপুর ছাড়াও গতকাল দেশের অরো কয়েকটি স্থানে নগদ অর্থ বহন ও ভোটারদের অর্থ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগে কয়েকজনকে সাজাও দেয়া হয়েছে।

গতকাল রাজধানীর সূত্রাপুরে নগদ টাকা বিতরণের প্রস্তুতিকালে হাবিবুর রহমান নামে জামায়াতে ইসলামীর এক কর্মীকে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ১২টি টাকাভর্তি খাম জব্দ করা হয়। ঘটনাস্থলে সংক্ষিপ্ত বিচারের মাধ্যমে তাকে দুইদিনের কারাদণ্ড দেয়া হয়। গতকাল রাতে ডিএমপির উপকমিশনার (মিডিয়া) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানান।

শরীয়তপুরের নড়িয়া পৌরসভার দক্ষিণ বৈশাখীপাড়া এলাকার জামায়াতে ইসলামীর একটি নির্বাচনী কার্যালয় থেকে ৭ লাখ ২০ হাজার টাকা উদ্ধার করেছে যৌথ বাহিনী। এ সময় সেখান থেকে আটক ভোটগ্রহণের দায়িত্বে থাকা এক পোলিং কর্মকর্তাকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যায় নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারক কমিটির বিচারক ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সুজন মিয়া এ সংক্ষিপ্ত বিচার আদালত পরিচালনা করেন। পরে নড়িয়া থানার পুলিশ তাকে কারাগারে পাঠান।

দণ্ডপ্রাপ্ত পোলিং কর্মকর্তার নাম গোলাম মোস্তফা। তিনি নড়িয়ার ১২৭ নম্বর হাজী সৈয়দ আহম্মদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। তিনি উপজেলার পঞ্চপল্লী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে পোলিং কর্মকর্তা হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন।

এদিকে রাজধানীর পল্লবীতে মিরপুর শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং প্রভাব বিস্তারের দায়ে জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা মার্কার দুজন এজেন্টকে দুই বছর সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। গতকাল ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারা ফারজানা হক নির্বাচনী দায়িত্ব পালনকালে অনিয়মের অভিযোগে এ কারাদণ্ড দেন। সাজাপ্রাপ্তরা হলেন মেহেদি হাসান খাদেম (৩২), রাইহান হোসেন (২৩)।

গত রাতে ঢাকা-১৬ আসনের মিরপুর শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ‘দাঁড়িপাল্লা’ মার্কার দুজন এজেন্ট নিয়মবহির্ভূতভাবে কেন্দ্রে প্রবেশ করেন। জানা যায়, ওই কেন্দ্রের দায়িত্বরত পোলিং অফিসার মোছা. সুমনা ইসলাম (সহকারী শিক্ষিকা) এ অনুপ্রবেশে সহায়তা করেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সুমনা ইসলাম স্থানীয় ৬ নং ওয়ার্ড জামায়াতের সাধারণ সম্পাদকের স্ত্রী। অনিয়মের দায়ে অভিযুক্ত পোলিং অফিসার মোছা. সুমনা ইসলামকে তাৎক্ষণিকভাবে নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

এদিকে গতকাল দুপুরে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলায় ভোটারদের কাছে লাঙল প্রতীকের পক্ষে টাকা বিতরণের অভিযোগে জাতীয় পার্টির (জাপা) দুই নেতাকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। উপজেলার চাঁদপুর এলাকায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এনএম ইশফাকুল কবীর তাদের জরিমানা করেন।