নিয়ম না মেনে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের একটি আরসিসি রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। পুরনো ইট বিছানো সড়কের মেয়াদোত্তীর্ণ ভাঙা ইট অপসারণ না করেই তার ওপর নতুন আরসিসি সড়ক নির্মাণকাজ চলছে। এতে সড়কের স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এলাকাবাসী। যদিও নির্মাণকাজে কোনো অনিয়ম সহ্য করা হবে না বলে জানিয়েছেন নির্বাহী প্রকৌশলী। তবে খরচ পোষাতে পুরনো ইট অপসারণ না করার কথা স্বীকার করেছেন কাজটির ঠিকাদার লামা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান।
জানা গেছে, লামা উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়নের চাম্বি মফিজ বাজারে জেলা পরিষদের অধীন আরসিসি রাস্তা নির্মাণকাজ চলমান। ওই কাজে মাঠ তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. তাজুল ইসলাম বলেন, রাস্তা নির্মাণকাজ বাস্তবায়নকারী ঠিকাদার হলেন লামা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মো. জাহেদ উদ্দিন। তবে তিনি মূল ঠিকাদারের নাম জানাতে অপরাগতা জানান।
গত শুক্রবার সরেজমিনে দেখা গেছে, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক হতে আজিজনগর ইউনিয়ন পরিষদ যাওয়ার প্রধান রাস্তায় একটি বেইলি সেতু রয়েছে। সেতু পার হলেই উত্তর দিকে একটি রাস্তা গেছে, এটি চাম্বি মফিজ বাজারে যাওয়ার রাস্তা। রাস্তাটির শুরু থেকে চাম্বি মফিজ বাজারের দিকে সম্প্রতি নতুন আরসিসি ঢালাই করা হয়েছে। এখান থেকে বাজারের মুখ পর্যন্ত আনুমানিক ৩০ মিটার আরসিসি ঢালাই দেয়া হয়েছে। যেখানে ঢালাই শেষ সেখান থেকে বাজারের ভেতরের দিকে পুরনো সড়কের ভাঙা ইটের ওপর দুই স্তরে তিন সুতা আকারের রড বাঁধাই কাজ চলমান। পুরান সড়কের কোনো কোনো স্থানে আড়াআড়ি করে নতুন ইট বিছানো হয়েছে।
এসব বিষয়ে মোবাইল ফোনে কথা হলে পুরনো ইট অপসারণ না করার কথা স্বীকার করেছেন কাজটির ঠিকাদার লামা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মো. জাহেদ উদ্দিন। তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে আরসিসি রাস্তা নির্মাণকাজটি পেয়েছে বান্দরবানের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইউএন এন্টারপ্রাইজ। রাস্তার দৈর্ঘ্য ২০৯ মিটার, প্রস্থ ১৮ ফুট। ঢালাইয়ের পুরুত্ব আট ইঞ্চি। মোট দৈর্ঘ্যের প্রায় ১৮০ মিটার ঢালাইয়ের কাজ বাকি আছে। বাকি অংশে রড বাঁধাই চলছে।
তিনি বলেন, ৩০-৪০ বছর আগের সলিং তো, গাড়ি চলতে চলতে ইটগুলো টুকরা টুকরা হয়ে গেছে। সেলভেজ হিসেবে ব্যবহার করার জন্য ধরা আছে মাত্র ৩ লাখ টাকা। পুরনো কিছু ইট তোলার পর দেখলাম এগুলো একদম ছোট ছোট কঙ্কর হয়ে গেছে। আমার আয়ের চেয়ে ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। যদি কেউ ওখানে যায় দেখবে যে সলিংটা ঠিক আছে, ভালো আছে। কিন্তু যখন আমি তুলতে যাই একটা ইট চার-সাত টুকরা হয়ে যাচ্ছে। লেবার খরচ বেশি চলে যাচ্ছে। আমি পোষাতে পারব না বিধায় আর ইট তুলিনি। না তুলে ওই সলিংয়ের ওপর দিয়ে ঢালাইটা দিয়ে দিয়েছি। আমি মিস্ত্রিকে বলে দিয়েছি, কাজ নিয়ে কেউ যেন বদনাম না করে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে বিধি অনুযায়ী ঠিকাদারি করতে পারেন কিনা—জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি তো ঠিকাদার না, ঠিকাদার আরেকজন। তবে কোনো ঠিকাদারের নাম বলেননি তিনি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে ইউএন এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী বান্দরবান শহরের জনৈক লুপ্রুসে মারমা। তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, আমার লাইসেন্স ব্যবহার করে আজিজনগরে কোনো কাজ হচ্ছে কিনা, তা আমার জানা নেই। তার পরও খোঁজ নিয়ে জানাচ্ছি। এ প্রসঙ্গে নাম প্রকাশ করতে না চেয়ে একাধিক সূত্র জানায়, মূলত আয়কর ফাঁকি দিতেই পাহাড়ি ঠিকাদারের লাইসেন্স ব্যবহার করা হয়।
বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জিয়াউর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, কার্পেটিংয়ের চেয়ে আরসিসি সড়ক অনেক টেকসই। পুরনো সড়কের ভালো ইটগুলো রেখে ভাঙা ইটগুলো অপসারণ করা হচ্ছে। ঢালাইয়ের আগে পুরনো সড়কে থাকা মাটি ধুয়ে পরিষ্কার করানো হবে। তিনি বলেন, নির্মাণকাজে কোনো অনিয়ম সহ্য করা হবে না।









