পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেছেন, ‘মহাকাশ প্রযুক্তিতে ঢাকার একটি নির্ভরযোগ্য অংশীদার প্রয়োজন। বাংলাদেশ ও তুরস্ক যদি একে অপরকে সহযোগিতা করে, তাহলে তা উভয় দেশের জন্যই লাভজনক হবে।’
শুক্রবার তুরস্কে ‘আনাতোলিয়া কূটনীতি ফোরাম (এডিএফ)-২০২৫’-এর ফাঁকে ‘টার্কিশ অ্যারোস্পেস’-এর প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মেহমেত ডেমিরোগ্লুর সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এ মন্তব্য করেন। বৈঠকে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মো. মাহফুজ আলমও অংশ নেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বৈঠকে উভয় পক্ষ বাংলাদেশে বিনিয়োগের খাত অন্বেষণ ও মানবসম্পদ উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি হস্তান্তরের বিষয়ে একমত পোষণ করেছে।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টার আমন্ত্রণে মহাকাশ প্রযুক্তির ক্ষেত্রে বিদ্যমান সুযোগ অন্বেষণ ও ভবিষ্যতে সহযোগিতার জন্য ‘টার্কিশ অ্যারোস্পেস’-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে তুরস্কের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফরে আসতে সম্মত হয়েছে। তুরস্কে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও উভয় পক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
শুক্রবার তিন দিনব্যাপী ‘আনাতোলিয়া কূটনীতি ফোরাম (এডিএফ)-২০২৫’ শুরু হয়। এ ফোরামের প্রতিপাদ্য হলো ‘বিভক্ত বিশ্বে কূটনীতি পুনরুদ্ধার’। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের পৃষ্ঠপোষকতায় দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ ফোরামের আয়োজন করেছে।
বিশ্বনেতা, নীতিনির্ধারক, শিক্ষাবিদ, ব্যবসায়িক বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি গণমাধ্যম ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা একত্র হয়েছেন এ ফোরামে। এ ফোরামের মাধ্যমে কীভাবে কূটনীতির পরিস্থিতির মোড় ঘুরিয়ে দেয়া যায় এবং একটি বিভক্ত বিশ্বে সম্মিলিত পদক্ষেপের একটি সাধারণ ভিত্তি খুঁজে পাওয়া যায়, তা অনুসন্ধান করার কথা জানিয়েছেন আয়োজকরা। ২০ জনেরও বেশি রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, ৫০ জনেরও বেশি পররাষ্ট্রমন্ত্রী, ৭০ জনেরও বেশি মন্ত্রী এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রায় ৬০ জন সিনিয়র প্রতিনিধি, পাশাপাশি শিক্ষার্থীসহ চার হাজারেরও বেশি অতিথি ফোরামে অংশগ্রহণ করেছেন।
এদিকে তুরস্কের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী এ. বেরিস একেনসির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মো. মাহফুজ আলম। গতকাল ‘আনাতোলিয়া কূটনীতি ফোরাম, ২০২৫’-এর সাইডলাইনে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাতে তুরস্ক ও বাংলাদেশের কূটনৈতিক এবং স্বার্থসংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে তুরস্কের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি বাংলাদেশের চলমান সংস্কার কার্যক্রমের প্রশংসা করেন এবং বাংলাদেশে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেন।
তুরস্ক ও বাংলাদেশের বন্ধুত্ব ও ভ্রাতৃত্বের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে উপদেষ্টা মাহফুজ আলম বলেন, ‘বাংলাদেশে তুরস্কের বিনিয়োগ দুই দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।’ সাক্ষাতে উপদেষ্টা তুরস্কের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে বাংলাদেশ সরকারের আগ্রহের কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন।










