রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে কৃষিভিত্তিক শিল্প ও বিনিয়োগ বাড়ানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষার প্রসার এবং বিমানবন্দর চালুর উদ্যোগকে এগিয়ে নেয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘ঠাকুরগাঁওয়ে বিমানবন্দর চালু হলে ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে সুবিধা হবে। তবে বিমানবন্দরকে কার্যকর ও টেকসই করতে হলে এলাকায় কলকারখানা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়াতে হবে। আমাদের এখানে কোনো কলকারখানা নেই। তাই লোকেরা কাজও পায় না। বিমানবন্দর হলে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে।’

গতকাল বিকালে ঠাকুরগাঁও বড়মাঠে আয়োজিত গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

নাগরিক সংবর্ধনা কমিটির আহ্বায়ক ডা. আবু মো. খয়রুল কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, জাতীয় সংসদের হুইপ মো. আখতারুজ্জামান মিয়া, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন, ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. আব্দুস সালাম, ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. জাহিদুর রহমান, রাষ্ট্রপতির বাল্যবন্ধু অধ্যাপক মনতোষ কুমার দে, জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক বেলাল উদ্দীন প্রধান প্রমুখ।

ঠাকুরগাঁওয়ে বিনিয়োগ বৃদ্ধির আশাবাদ ব্যক্ত করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা আশা করছি যে এখানে কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলার জন্য শিগগিরই কিছু বিনিয়োগকারী নিয়ে আসতে সক্ষম হব।’

তিনি কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তুলতে চীন থেকে বিনিয়োগকারী ও বিশেষজ্ঞ আনার বিষয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেন। রাষ্ট্রপতি ব্যবসায়ীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে স্থানীয়ভাবে আরো বিনিয়োগের উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানান ও সহযোগিতার আশ্বাস দেন। মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কাজ এগিয়ে চলছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য জমি কেনা হয়েছে। ভাইস চ্যান্সেলর দায়িত্ব নিয়েছেন। আজ সেখানে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে। ঠাকুরগাঁওয়ে একটি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার দাবিও পূরণ হয়েছে। স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে এবং আগামী বছর থেকে সেখানে শিক্ষার্থী ভর্তি শুরু হবে।’

রাষ্ট্রপতি জানান, জেলায় একটি স্পোর্টস ভিলেজ তৈরি হবে এবং উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে নতুন করে খেলার মাঠ নির্মাণ করা হবে।

এছাড়া আধুনিক তথ্য কমপ্লেক্স, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক কার্যালয়, আঞ্চলিক সমবায় প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট এবং পীরগঞ্জে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত শিবগঞ্জ বিমানবন্দর চালুর আশা ব্যক্ত করে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কার্যক্রমের মাধ্যমে কৃষির অনেক উন্নতি হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমরা কাজ করতে চাই। যারা কাজ করে তাদের সঙ্গে থাকতে চাই। যারা সততার সঙ্গে মানুষের সেবা ও কল্যাণের জন্য কাজ করে তাদের আমরা সাহস জোগাতে চাই এবং সমর্থন করতে চাই।’

এ সময় তিনি তরুণ ও যুবসমাজকে উদ্যোক্তা হওয়ার এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ তৈরির আহ্বান জানান। একই সঙ্গে নিজস্ব উদ্যোগে স্থানীয় নারীদের বিভিন্ন কাজের প্রশংসা করেন।

রাষ্ট্রপতি তার পিতা-মাতা, স্থানীয় মুরব্বি, শিক্ষকসহ তার জীবনের পথচলায় যারা সহযোগিতা করেছেন তাদের কথা বিশেষভাবে স্মরণ করেন এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

রাষ্ট্রপতি তার সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগমের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘আমার পুরো রাজনৈতিক জীবনে আমার সহধর্মিনী সাহস জুগিয়েছেন এবং পাশে দাঁড়িয়েছেন।’

তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য দীর্ঘ লড়াই করায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত খালেদা জিয়াকে স্মরণ করেন।