পঞ্চগড় সদরের ধাক্কামারার নিম্নাঞ্চল থেকে উৎপত্তি হয়েছে পাম নদের। বোদা উপজেলার বেংহারী বনগ্রাম ইউনিয়নের গড়েরডাঙ্গা দিয়ে সোনাচান্দিতে করতোয়ায় মিলেছে নদীটি। স্থানীয়দের অভিযোগ, সম্প্রতি বেংহারী বনগ্রাম ইউনিয়নে পাম সেতুর কাছে বাঁধ দিয়েছেন জিয়াউর রহমান জিয়া নামে এক ব্যক্তি। নদীর মাঝখানে খনন করেছেন পুকুর। বদলে দেয়া হয়েছে নদীর গতিপথও। বর্ষায় ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছেন নদীর পশ্চিম তীরের বাসিন্দারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এক্সক্যাভেটর দিয়ে সেতুর সংযোগ সড়কের কাছ থেকে বালি তুলে জমি ভরাট করা হচ্ছে। নদের জমি ভরাট করে গড়ে তোলা হয়েছে বাঁধ। দুই মাস ধরে এ অবস্থা চলতে থাকলেও দখল থামেনি। পাম নদ এখন নালায় পরিণত হয়েছে। বাঁধ দেয়ার কারণে বর্ষায় ভাঙনের শঙ্কায় পড়েছে নদীপাড়ের অর্ধশত পরিবার। পাম সেতুর সামনেই নদের মাঝখানে পাড় বাঁধানো পুকুর। পানিপ্রবাহের সরু অংশটুকু যাচ্ছে এখন ব্যক্তিমালিকানা জমির ওপর দিয়ে। নদের জমিতেই বাড়ানো হচ্ছে পুকুরের পরিধি। দখল আর গতি পরিবর্তনে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে পাম নদটি।

স্থানীয়রা কয়েকজন বাসিন্দা জানান, পঞ্চগড়ের সদর ও বোদা উপজেলার মধ্য দিয়ে এঁকেবেঁকে প্রবাহিত হয়েছে পাম নদ। এখন নদের গতি পরিবর্তন করে দেয়া হয়েছে ব্যক্তিমালিকানা জমির ওপর দিয়ে। মাঝখানে খনন করা হয়েছে পুকুর। সেখানে চলছে মাছ ও ধান চাষ।

নদীপাড়ের বাসিন্দা আসাদুল ইসলাম বলেন, ‘নদটি আগে জিয়াউর রহমান জিয়ার বাড়ির পাশ দিয়ে ছিল। এখন নদীর মধ্যে পুকুর করে তারা সরু গতিপথ করে দিয়েছে আমাদের বাড়ির পাশ দিয়ে। গত বছর বর্ষায় আমাদের এ পাশে ভাঙন শুরু হয়েছে। এবার বর্ষায় আরো বেশি ভাঙন হবে। তারা প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ তাদের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস করে না।’

রূপবান বেগম নামে এক বৃদ্ধ বলেন, ‘আমরা ছোটবেলা  থেকেই দেখেছি যে স্থানে পুকুর খনন করা হয়েছে নদটি তার মাঝ বরাবর ছিল। এখন তারা পুকুর খনন করে নদের গতিপথ আমাদের বাড়ির পাশ দিয়ে করেছে। বর্ষা এলেই ভাঙন শুরু হয়।’

সরজমিন দেখা গেছে, দখল পাকাপোক্ত করতে শক্ত করে বাঁধা হচ্ছে পুকুরের পাড়। পাম সেতুর পোলঘেঁষে পুকুর খনন করায় ঝুঁকিতে পড়েছে সেতুটি। অন্যদিকে নদের গতিপথ পরিবর্তন করে দেয়ায় ৫০টি পরিবার বর্ষায় ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। তারা প্রভাবশালী হওয়ায় স্থানীয়রা কোনো প্রতিবাদ করার সাহস পান না। নীরব রয়েছে স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড।

জিয়াউর রহমান জিয়া বলেন, ‘নদের জমি যেটি আপনারা বলছেন, সেটি অর্পিত সম্পত্তি। আদালতের মাধ্যমে সেটি আমি দায়মুক্তি পেয়েছি। আমার জমিতেই মাছ চাষ করার জন্য পাড়সহ পুকুর করেছি। নদের জমি নদেই রয়েছে।’

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, পাম নদটি পঞ্চগড় সদর উপজেলার ধাক্কামারার নিম্নাঞ্চল থেকে উৎপত্তি হয়েছে। এটি বেংহারী বনগ্রাম ইউনিয়নের গড়েরডাঙ্গা দিয়ে সোনাচান্দি এলাকায় করতোয়া নদীতে মিলিত হয়েছে। নদের দৈর্ঘ্য সাড়ে চার কিলোমিটার ও গড় প্রস্থ ২০ মিটার। বর্তমানে পাম নদের যে স্থানে পুকুর খনন করা হয়েছে, গতিপথ ছিল তার মাঝ বরাবর। প্রশস্ততাও ছিল। নদের মাঝখানে পুকুর খনন করে সরু প্রবাহ পরিবর্তন করে দেয়া হয়েছে পশ্চিম তীরের জনবসতির পাশ দিয়ে।

এ ব্যাপারে পঞ্চগড় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আশুতোষ বর্মণ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা খোঁজখবর নিচ্ছি। বিষয়টি পানি ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় উত্থাপন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহরিয়ার নজির বলেন, ‘তহসিলদারের মাধ্যমে পুকুর খনন বন্ধ করতে বলা হয়েছে।  এছাড়া জিয়াউর রহমান জিয়াকে আগের জায়গায় ফিরে যেতে বলা হয়েছে। পুকুর খনন ও মাটি ভরাটকাজ বন্ধ না হলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’