পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রামসার সাইট হিসেবে পরিচিত সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরে পর্যটন চলবে তবে তা নিয়ন্ত্রিত হবে। পর্যটকদের সংখ্যা, হাউজবোটের কার্যক্রম, পরিবেশের ক্ষতি এড়াতে প্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে।

মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার টাঙ্গুয়ার হাওর, গুরমার হাওর এবং মাটিয়ান হাওরের বাঁধ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেন, টাঙ্গুয়ার হাওরে ট্যুরিজম চলবে, তবে তা পরিবেশ রক্ষায় নিয়ন্ত্রিত থাকবে। কতজন পর্যটক আসতে পারবেন, কতগুলো হাউজবোট চলবে, সেগুলো কোন নিয়ম মেনে চলবে—সবই নির্ধারণ করা হবে। প্লাস্টিক ও পলিথিন নিষিদ্ধ করা হবে এবং হাওরের পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এমন কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।

হাওরের বাঁধ নিয়ে তিনি বলেন, আর কোনো অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ হবে না। সকল বাঁধ হবে পরিকল্পিত এবং পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। কোনো বাঁধের কারণে পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি হলে এবং মৎস্যসম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পর্যটন খাতে সুশৃঙ্খলতা আনতে শিগগিরই একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে বলে জানান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, পর্যটন খাতে যারা কাজ করেন, তাদের পরামর্শ নেয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক (ডিসি) শিগগিরই একটি বৈঠক আয়োজন করবেন। সেখানে সবার মতামত নিয়ে একটি নীতিমালা বা বিধিমালা তৈরি করা হবে। ট্যুরিজম মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে এই কাজ করা হবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম। এছাড়াও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা, সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস মিয়া, পুলিশ সুপার আ.ফ.ম আনোয়ার হোসেন খানসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।