এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত আরো ১০ জন। মিরপুর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সীমানা প্রাচীর ধসে গতকাল বেলা দেড়টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত দুজনের একজনের নাম নাছিমা বেগম। তিনি মিরপুর ২ নম্বর জনতা হাউজিং এলাকায় থাকতেন। হাফিজুর রহমান নামে আরেকজন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) নেয়ার পর মারা যান। তার বয়স আনুমানিক ৩৫ বছর। তবে তার বিস্তারিত পরিচয় জানা যায়নি।
মিরপুর মডেল থানার পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মিরপুর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সীমানা প্রাচীরের পাশে লাইন ধরে গতকাল সকাল থেকেই টিসিবির পণ্য কিনছিলেন লোকজন। বেলা দেড়টার দিকে হঠাৎ কলেজের দেয়াল ধসে পড়ে। এতে টিসিবির লাইনে থাকা বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন। কারো মুখ, কারো পা থেঁতলে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরে খোলাবাজারে টিসিবির সাশ্রয়ী মূল্যের পণ্য কিনতে মিরপুর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের পেছনের দেয়াল ঘেঁষে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন শত শত সাধারণ মানুষ। প্রচণ্ড ভিড়ের মধ্যে হঠাৎ করেই কলেজের সীমানা প্রাচীরটি ধসে পড়ে। মুহূর্তেই দেয়ালের নিচে চাপা পড়েন লাইনে থাকা বেশ কয়েকজন নারী-পুরুষ।
ঘটনার পর পরই স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত এগিয়ে এসে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে নিকটস্থ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠান। এর মধ্যে গুরুতর আহত নাছিমা বেগমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
মিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ হাফিজুর রহমান জানান, দেয়াল ধসে দুজন নিহত হয়েছেন এবং অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। প্রাচীরটি ঠিক কী কারণে হঠাৎ ধসে পড়ল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
দেয়াল ধসে আহতদের চিকিৎসার সব খরচ সরকার বহন করবে বলে আশ্বস্ত করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন। গতকাল রাতে পঙ্গু হাসপাতালে আহতদের দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আহতদের চিকিৎসার যাবতীয় খরচ সরকারের পক্ষ থেকে বহন করা হবে। চিকিৎসায় যেন কোনো ত্রুটি না থাকে, সে জন্য সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। বাইরে থেকে কোনো ওষুধ বা চিকিৎসা সামগ্রী আনতে হলে তার হিসাব রাখা হবে এবং আমরা তার পুরো অর্থ পরিশোধ করব। এরই মধ্যে প্রাথমিক খরচ হিসেবে আহতদের স্বজনের হাতে নগদ অর্থ দেয়া হয়েছে।’










