তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলোপসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিল খারিজ করে দিয়েছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত। এ বিষয়ে এক প্রতিক্রিয়ায় আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিএনপির আন্দোলনের ফসল।
দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ বিষয়ে এক প্রতিক্রিয়ায় এ কথা জানান আইনমন্ত্রী।
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হবে কিনা, একজন সাংবাদিক জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান তিনবার ‘ইনশা আল্লাহ’ উচ্চারণ করেন।
তিনি আরো বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফেরানো আমাদের রাজনৈতিক অঙ্গীকার। আগামী নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থায় অনুষ্ঠিত হবে।
তত্ত্বাবধায়ক নাকি অন্তর্বর্তী সরকার হবে, এমন প্রশ্নে তিনি জানান, সব শ্রেণির মানুষের মতামত নিয়েই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।
পঞ্চদশ সংশোধনী প্রসঙ্গে এক প্রশ্নে আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আপনারা জানেন, পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বেশ কিছু সংশোধনী আনা হয়েছিল, সেই সংশোধনীগুলোর বাংলাদেশের গণতন্ত্রের কবর রচনা করা হয়েছিল। যে সংশোধনীগুলোর মাধ্যমে বাংলাদেশের ফ্যাসিস্টদের চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত দেয়ার জন্য প্রক্রিয়া আনা হয়েছিল, যেগুলো নিয়ে আমরা বলেছিলাম এগুলো আলট্রাভাইরাস টু দি কনস্টিটিউশন।’
আইনমন্ত্রী অ্যার্টনি জেনারেল থাকাকালে সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার ও অন্যান্যরা এ সংশোধনী নিয়ে মামলা করেন। বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নির্দেশনা ছিল এ সংশোধনীগুলো বাংলাদেশের মানুষের জীবনে বোঝা হয়ে আছে। অন্তর্বর্তী সরকার অবশ্যম্ভাবী, অন্তর্বর্তী সরকারের বিকল্প কিছু নাই। তখন আমরা সাবমিশন দিয়ে ছিলাম সেই লাইনে।
আদালতের রায়ের পরবর্তী পর্যায় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংসদে সংশোধনী আনতে মুখ্য বিবেচ্য থাকবে ‘জুলাই চার্টার’। জুলাই সনদকে সামনে রেখে এ সংশোধনীগুলোকে কীভাবে মানুষের যুগোপযোগী, দেশের জন্য, গণতন্ত্রের জন্য, আইনের শাসনের জন্য, ন্যায় বিচারের জন্য আনা সম্ভব হয় সেটা আমরা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিবেচনা করে এবং পাবলিক কনসালটেশনের মধ্য দিয়ে আমরা সংসদে বিল আনব এ আশ্বাস দিতে পারি।
তিনি বলেন, ‘রায়ে ৫৪টি বিষয়ে বলা হয়েছে, জুলাই সনদকে প্রাধান্য দিয়ে ৫৪টি বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়া হবে। এ ছাড়া এই রায়ে অন্তত চারটি বিষয়ে জন-আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়েছে।’
তত্ত্বাবধায়ক নাকি অন্তর্বর্তী সরকার হবে— রায়ের আলোকে সবার সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত হবে। একইভাবে গণভোটের রায় পর্যালোচনা করা হবে। রায়ের পাওয়ার পর সংবিধান সংশোধন কমিটি হবে।
আইনমন্ত্রী আরো বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের রায় এবং জন-আকাঙ্ক্ষা সামনে রেখেই রায় বাস্তবায়ন করা হবে। জাতীয় সংসদের আগামী অধিবেশনেই জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন উত্থাপন করা হবে।’
আজ সকালে বহুল আলোচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায় বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। এ আদেশের ফলে সংবিধানে গণভোট ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফিরল বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।










