বাংলাদেশে বিনিয়োগ সম্প্রসারণে আগ্রহী সৌদি আরব। এতে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাত। রাজধানীর বিনিয়োগ ভবনে আজ সকালে সৌদি আরবের পরিবহন ও লজিস্টিকস উপমন্ত্রী ড. রুমাইহ মোহাম্মদ আল-রুমাইহ নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদল এ বিনিয়োগ আগ্রহ প্রকাশ করে।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি থেকে জানা যাচ্ছে, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আলোচনায় নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ কর্তৃপক্ষের (পিপিপিএ) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আশিক চৌধুরী। পিপিপিএ, বিডা ও বেজার কর্মকর্তারা এ আলোচনায় অংশ নেন।

সৌদি উপমন্ত্রী বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি ও ব্যবসা সহজীকরণের ওপর গুরুত্বারোপকে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, এই অগ্রাধিকার সৌদি আরবের নিজস্ব কৌশলের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।

আরো জানান, সৌদি আরব বৈশ্বিক লজিস্টিকস হাব হিসেবে গড়ে উঠতে কাজ করছে এবং অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিভিন্ন খাতে শীর্ষস্থানীয় সৌদি প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিদেশী বিনিয়োগে সহযোগিতা করছে। তিনি বাংলাদেশে সৌদি কোম্পানিগুলোর জন্য আরো সুযোগ তৈরির আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং সৌদি আরবে ব্যবসা করতে আগ্রহী বাংলাদেশী কোম্পানিগুলোকেও সহায়তার আশ্বাস দেন।

আলোচনায় সৌদি উপমন্ত্রী চট্টগ্রাম বন্দরের পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালে রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল (আরএসজিটি)-এর কার্যক্রমের কথাও তুলে ধরেন।

তিনি উল্লেখ করেন, আরএসজিটির বাংলাদেশ কার্যক্রমে ৯৮ শতাংশের বেশি কর্মী বাংলাদেশী। টার্মিনাল পরিচালনায় দক্ষতা তৈরি, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং আধুনিকায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের সামুদ্রিক লজিস্টিকস খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির সুযোগ অনুসন্ধানে আগ্রহী আরএসজিটি।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশে সৌদি কোম্পানিগুলোর জন্য আরো বিনিয়োগ ও ব্যবসার সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে সৌদি আরবে ব্যবসা করতে আগ্রহী বাংলাদেশী কোম্পানিগুলোকেও সহায়তার আশ্বাস দেন তিনি। পারস্পরিকভাবে লাভজনক প্রকল্প এগিয়ে নিতে বর্তমান সময়ের ইতিবাচক গতিকে কাজে লাগানোর ওপর উভয় পক্ষ গুরুত্ব দেয়।

বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের আলোচনায় এমন কয়েকটি খাত উঠে এসেছে, যেখানে সৌদি পক্ষের গভীর আগ্রহ রয়েছে এবং বাংলাদেশের অগ্রাধিকারের সঙ্গেও দৃঢ় সামঞ্জস্য আছে—বিশেষ করে লজিস্টিকস ও সাপ্লাই চেইন নেটওয়ার্ক, যা কোল্ড স্টোরেজ থেকে শুরু করে বন্দর পর্যন্ত বিস্তৃত। বাংলাদেশ আর্থিক সেবা খাতেও বিনিয়োগ সহযোগিতাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। আমরা ইতোমধ্যে একাধিক সৌদি কোম্পানির সঙ্গে কাজ করছি, যাতে তারা বাংলাদেশে বিদ্যমান সুযোগগুলো ভালোভাবে বুঝতে পারে এবং গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ আলোচনা এগিয়ে নেয়া যায়।’