রাঙ্গামাটির কাপ্তাই উপজেলায় ‘অজ্ঞাত
বস্তুর’ বিস্ফোরণে বাবা-ছেলের মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটন করা যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, বিস্ফোরিত ঘরটিতে ‘গ্রেনেডের’ পিন পাওয়া
গেছে।
রোববার সন্ধ্যায় রাঙ্গামাটির কাপ্তাই উপজেলার বাদশামিয়া টিলা এলাকায় এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ইসমাইল মিয়া (৪০) ও তার ছেলে মো. রিফাতের (৭) ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়। ইসমাইলের স্ত্রী সখিনা বেগম (৩৫) গুরুতর আহত হয়েছেন। রোববার রাতেই তাকে কাপ্তাইয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে চমেকে চিকিৎসাধীন সখিনার শারীরিক অবস্থা শঙ্কামুক্ত রয়েছে বলে জানা গেছে। বিস্ফোরণের সময় পরিবারের চার সদস্যের তিনজন উপস্থিত থাকলেও ইসমাইলের মেয়ে ইসরাত জাহান ফারিয়া (৮) ঘরে না থাকায় সে রক্ষা পেয়েছে।
গতকাল সকালে সরেজমিন দেখা গেছে, বিস্ফোরণে নিহত ইসমাইল হোসেনের বাড়ির আসবাব ও অন্য জিনিসপত্র ছিন্নভিন্ন হয়ে পড়ে আছে। যে ঘরটিতে বিস্ফোরণ ঘটেছে, সেখানে রক্তের ছাপ রয়ে গেছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে ঘরের আসবাব। একটি দুর্ঘটনা এক নিমিষেই পরিবারটির সব শেষ করে দিয়েছে। ছেলে ও নাতিকে হারিয়ে শোকে যেন পাথর হয়ে আছেন ইসমাইলের বাবা আজহার উল্লাহ (৬৫)। তিনি বলেন, ‘আমি
মাঠে গিয়েছিলাম গরু আনতে, এসে দেখি সব শেষ হয়ে গেছে।’
ইসমাইলের বোন পারভীন আক্তার ঘটনার বিবরণ দিয়ে বলেন, ‘আমরা
বিকট শব্দ শোনার পর মনে করি, এখানে বিদ্যুৎ ট্রান্সফরমার বিস্ফোরিত হয়েছে। পরে এসে দেখি আমরা ভাইয়ের ঘর অন্ধকার, আর আমার ভাবি চিৎকার করছে। একপর্যায়ে ঘরের দরজা বন্ধ থাকায় আমরা দরজা ভেঙে ঢুকে দেখি আমার ভাই ও ভাইয়ের ছেলে বিস্ফোরণে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।’
নিহত ইসমাইল হোসের প্রতিবেশী রোমানা আক্তার বলেন, ‘ইসমাইলের
স্ত্রীসহ আমি প্রতিদিন গরুর ঘাস আনতে জঙ্গলে যাই। ঘটনার দিন সকালেও আমরা একসঙ্গে জীবতলী এলাকায় গরুর ঘাস সংগ্রহে গিয়েছি। সেখানে একটি “লাল
বল জাতীয় বস্তু” দেখতে পেয়েছি। যেটি ইসমাইলের স্ত্রী খেলনা ভেবে ছেলের জন্য নিয়ে আসেন। এলাকাবাসীর ধারণা, ওই বস্তুটি বিস্ফোরিত হয়েছে।’
রাঙ্গামাটির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কাপ্তাই সার্কেল) রওশন আরা রব বলেন, বিস্ফোরণে নিহত বাবা-ছেলের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। যে ঘরের ভেতর বিস্ফোরণ হয়েছে, সেখানে ‘গ্রেনেডের পিন’ পাওয়া গেছে। পরিবারের লোকজন কোথাও থেকে লৌহজাতীয় জিনিস বাসায় এনেছেন। বোম ডিসপোজাল ইউনিট ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তারা পরিদর্শন শেষে অফিশিয়ালি কোনো মন্তব্য করেননি। তাই আপাতত ঘটনার ক্লু বলা যাচ্ছে না।










