বগুড়ার ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সঞ্জয় কুমার মহন্তের বাসভবন থেকে সরকারের বরাদ্দকৃত ২২১ বস্তা ত্রাণসামগ্রী পাওয়া গেছে। বন্যাসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে দুস্থ ও অসহায় পরিবারের মাঝে এসব ত্রাণ বিতরণের নির্দেশ থাকলেও তিনি তা করেননি। সদ্য বদলিজনিত কারণে ধুনট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে হস্তান্তরকালে ঘটনাটি ফাঁস হয়ে যায়। সময়মতো দুস্থদের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ না করায় খাদ্যদ্রব্যের মেয়াদ শেষ ও কিছু নষ্ট হয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

গতকাল ধুনট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হাই খোকন সাংবাদিকদের জানান, বদলিজনিত কারণে ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার মহন্তের বৃহস্পতিবার শেষ কর্মদিবস ছিল। চাকরির বিধি অনুযায়ী রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় তার বদলির আদেশ হয়েছে। তিনি ধুনট উপজেলা থেকে বিদায় নেয়ার আগে তার বাসায় মজুদ রাখা দুস্থদের জন্য বরাদ্দকৃত ২২১ বস্তা খাবার বুঝিয়ে দিয়েছেন। তবে অধিকাংশ বস্তার খাদ্যদ্রব্যই নষ্ট হয়ে গেছে। কোনো কোনো খাদ্যদ্রব্যের মেয়াদ নেই। 

বগুড়া জেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ২৫ জুলাই জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে বন্যার্তদের মাঝে বিতরণের জন্য ধুনট উপজেলায় ৫০০ বস্তা ত্রাণ বরাদ্দ দেয়া হয়। প্রতি বস্তায় রয়েছে ১০ কেজি চাল, দুই কেজি ডাল, দুই কেজি চিড়া, দুই কেজি চিনি, দুই লিটার সয়াবিন তেল, এক কেজি গুড় ও এক প্যাকেট সেমাই। ২০২০ সালের ২০ জুন ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন সঞ্জয় কুমার মহন্ত। গত ৭ মার্চ রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় তার বদলির আদেশ হয়।

এ ব্যাপারে সদ্য বদলি হওয়া ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার মহন্ত জানান, ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয় থেকে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে ২০২২ সালের ২৫ জুলাই ৫০০ বস্তা খাবার বরাদ্দ পাওয়া যায়। কিন্তু এলাকায় বন্যা না হওয়ায় খাবারগুলো বিতরণ না করে বাসায় সংরক্ষণ করা হয়।পরে পর্যায়ক্রমে দুস্থদের মাঝে ২৩০ বস্তা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। অবশিষ্ট খাবার ঈদের আগে আশ্রয়ণের বাসিন্দাদের মাঝে বিতরণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। কিন্তু তার আগেই বদলির আদেশ হওয়ায় তা উপজেলা চেয়ারম্যানের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।